
বগুড়ার শেরপুরে মজুমদার প্রোডাক্টসের দূষিত পানি ও উড়ন্ত ছাইয়ে বিপন্ন পরিবেশ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় অবস্থিত মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে দূষিত পানি ও উড়ন্ত কালো ছাইয়ের মাধ্যমে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এ দূষণের ফলে জনস্বাস্থ্য, কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ছোনকা কলেজ রোড এলাকায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ দূষণ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একই সঙ্গে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ, রেজাউল করিম ও হুমায়ুন কবীর মিঠু। তাঁরা অভিযোগ করেন, মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও কালো ছাই উন্মুক্ত স্থানে ফেলছে।
তাঁদের ভাষ্য, বাতাসে ভেসে আসা এসব ছাই মানুষের শরীর, চোখ, বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমিতে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এর ফলে এলাকায় চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চোখ জ্বালাপোড়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী হায়দার আলী স্বপন, শাহাদত হোসেন, আহসান আলী ও নয়ন উদ্দিন অভিযোগ করেন, উড়ন্ত ছাই চোখে প্রবেশ করায় তাঁদের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই এখন আগের মতো স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না। পাশাপাশি কারখানার বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ফসলি জমি ও লোকালয়ে প্রবেশ করায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধে ছোনকা কলেজ রোড এলাকার মানুষের বসবাস ও চলাচলও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
তাঁরা আরও জানান, বিষয়টি একাধিকবার কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরিবেশ দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। এমনকি এলাকার কয়েকটি টিউবওয়েলের পানিতেও দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। অন্যথায় মিলের প্রধান ফটক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী খালেদ বলেন, তাঁদের কারখানার বর্জ্য ও দূষিত পানি কোনো বাড়িতে প্রবেশ করেছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার কারণেই ওই বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া কারখানার ছাই উড়ে যাওয়া কিংবা বর্জ্য ও দূষিত পানি বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এরপরও যদি কারও কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে এবং তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে এলাকার সচেতন মহলের দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply