1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত গাইবান্ধা: কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, বাড়ছে রোগী  দুর্ভোগ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৮ Time View

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত গাইবান্ধা: কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, বাড়ছে রোগী  দুর্ভোগ

 

রানা ইস্কান্দার রহমান।

 

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

 

এ বছর জানুয়ারির শুরুতেই গাইবান্ধা জেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রাতভর ও দিনের বেলাতেও বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে ঘন কুয়াশা, সঙ্গে বইছে উত্তরের শীতল বাতাস। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।

‎রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার গাইবান্ধা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিম শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে আগামী আরও দুদিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় সূর্যের দেখা না মিললে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎ভোরের আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে সড়ক, মাঠ ও জনপদ। অনেক সময় কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন। শীত নিবারণের জন্য গ্রামের মানুষ খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুনের পাশে বসে হাত-পা সেঁকে নেওয়াই এখন নিত্যদিনের চিত্র। তবে এতে ধোঁয়ার কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

‎মানুষের পাশাপাশি শীতে চরম কষ্টে রয়েছে গবাদিপশুরাও। বাথান ও গোয়ালে থাকা গরু-ছাগল কাঁপতে কাঁপতে রাত পার করছে। খামারিরা জানান, তীব্র শীতে পশুর খাদ্যগ্রহণ কমে গেছে এবং দুধ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

‎সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছে নিম্ন আয়ের দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো। শীতের কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও হ্রাস পেয়েছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই কুয়াশাভেজা ঠান্ডার মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

‎এদিকে শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, বাতব্যথা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রকোপ।

‎গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. সোহেল বলেন, শীতের সময় সবাইকে গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ঠান্ডা ও বাসি খাবার পরিহার এবং শিশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কথা বলেন।

‎হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ উর রহমান জানান, শীতে শিশু রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তিনি মোটরসাইকেল চালকদের চেস্টগার্ড ব্যবহার, সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধান এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকার আহ্বান জানান।

‎জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, কম্বল কেনার জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জেলায় ২২ হাজার ৬০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :