
গাইবান্ধার বল্লমঝাড়ে বৃদ্ধা মাকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা! প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ।
আঃ রাজ্জাক সরকার, গাইবান্ধা থেকে,
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের চক গয়েশপুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মা- মেয়েকে হাত-পা বেঁধে মারপিট ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চামেলী বেগম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চামেলী বেগম(৩৬) দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর দুবাই ও কাতারে চাকরি করে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার চকগয়েশপুর এলাকায় বসতবাড়ির জমি কেনেন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ জমি তাঁর নিজের নামে এবং ১০ শতাংশ জমি তাঁর মা হাসনা বেগমের নামে কিনে নেয়। পরে সেখানে ভবন নির্মাণ করে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়।
সুত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চামেলী বেগমের পিতা ও দুই ভাই ও ভাইয়ের বউ। বসবাসের জায়গা না থাকায় চামেলী বেগম তাদেরকে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেন। পরবর্তীতে গোপনে মায়ের ওপর নির্যাতন ও জমি লিখে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তার মা নিজের নামে থাকা ১০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ চামেলী বেগমকে এবং বাকি ৫ শতাংশ তাঁর ছোট মেয়ে মাহমুদা আক্তার সাথীকে দলিল করে দেন। এরপর থেকে তার মায়ের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুত্র আরো জানায়, গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে হাসনা বেগমের সাথে অভিযুক্তদের তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা চামেলী বেগমকে তার ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করে ও পিতা চাঁন মিয়া পুত্র ও পুত্রবধুদের মারপিট করার নির্দেশ দেন। ফলে তারা বারান্দার সিঁড়ির সাথে হাত-পা বেঁধে বেদম মারপিট করে।
এ সময় চামেলীর ভাই হান্নান মিয়া ও হাসান মিয়া বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। এছাড়াও চামেলীর ভাইবউ রাজিয়া বেগম তার চুলের মুঠি ধরে টেনে নির্যাতন করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
চামেলীর মা হাসনা বেগম জানান, আমাকে মারপিটের সময় আমার গলায় থাকা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ও এবং ২২ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিদেশি ফোন নিয়ে যায়। ঘটনার শোরগোল শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান, তারা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ভবিষ্যতে বাড়িতে গেলে প্রাণনাশ ও জখমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন।
পরে খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে আমার মেয়ে চামেলী বেগম গাইবান্ধায় এসে আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ব্যাপারে চান মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার মেয়ের টাকায় জমি কেনা হলেও বাড়ি করার সময় আমরা সবাই গায়ে গতরে খেটেছি একটু আশ্রয়ের আশায়।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চামেলী বেগম।
Leave a Reply