
ভুল চিকিৎসায় একের পর এক শিশু মৃত্যু: প্রো-অ্যাকটিভের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তবুও চুপ সিভিল সার্জন !
ব্যুরো চিফ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ‘প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’-এর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, অবহেলা এবং বাণিজ্যিকিকরণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। চিকিৎসার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চরম গাফিলতিতে একের পর এক শিশুর প্রাণ যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে হাসপাতালের সামনে ভুক্তভোগী বাবা-মায়েরা মানববন্ধন ও আহাজারি করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীদের দাবি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসে হাসপাতালটিতে প্রসবের পর ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একটি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রসবের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের নবজাতকের শরীর নীল হতে শুরু করে। ওই সময় বারবার চিৎকার ও আকুতি জানানো সত্ত্বেও কোনো বিশেষজ্ঞ বা অন-ডিউটি ডাক্তারকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছাড়াই হাসপাতালের আয়াকে দিয়ে বাচ্চার চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়েই শিশুটি মারা যায়।
অন্যান্য ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রোগীদের সাধারণ আইসিইউ বা এনআইসিইউতে রেখে দিনের পর দিন মোটা অঙ্কের বিল তৈরি করা হলেও সে অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয় না। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
৮০ শিশুর মৃত্যুর গুজব ও প্রশাসনিক বাস্তবতা:
অক্টোবর মাসে মাত্র ১৩ দিনে এই হাসপাতালে ৮০টি শিশু মারা গেছে বলে যে তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কোনো সত্যতা বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একটি বেসরকারি হাসপাতালে এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হলে তা মহামারি বা বড় ধরনের বিপর্যয় নির্দেশ করে, যার কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড নেই। মূলত, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি শিশু মৃত্যুর দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় এই ধরনের অতিরঞ্জিত সংখ্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সিভিল সার্জনের ভূমিকা:
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আংশিকভাবে চিকিৎসায় ত্রুটির বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করলেও মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে সিভিল সার্জন বা স্বাস্থ্য প্রশাসনের নীরবতা এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেকোনো চিকিৎসা অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন কার্যালয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতি কিংবা ঘটনার গভীরতা নিরূপণে তদন্তাধীন থাকার কারণে তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান পদক্ষেপ না আসায় সাধারণ মানুষের মনে ‘নীরবতার’ প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর একটাই দাবি, অবিলম্বে যেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে এই হাসপাতালের লাইসেন্স, চিকিৎসকদের যোগ্যতা এবং সেবার মান খতিয়ে দেখা হয়, যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।
Leave a Reply