
বগুড়ায় পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
মোঃইসমাঈল হোসেন বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর প্রতিনিধির কাছ থেকে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।এ সময় ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।পঞ্চগড়,দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী,গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার মোঃ সাদিকুল ইসলাম ও মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৩) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকার মোঃ রবিউল ইসলাম (২৬) ও বালিঘাটা বাজার এলাকার মোঃ আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোঃ খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে তাঁর খালাতো ভাই মোঃ বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেজাবি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠান।বারগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা।
ঐ দিন বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাপ্পি হোসেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।পরে তাঁকে আহত অবস্থায় শিবগঞ্জের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় খায়রুল ইসলাম পুলিশ সুপার ও শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে শিবগঞ্জ থানায় এফআইআর নম্বর ৩৩,তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ,পিপিএম এর নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর করিব ও এসআই মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান শুরু করে।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাধীন তিরনইহাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানাধীন মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে আলমগীরের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে দিনাজপুরের হাকিমপুরের দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকায় সাদিকুলের বসতবাড়ি থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি,এ ঘটনায় স্বর্ণ বিক্রির মোট ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক,বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে।অপর গ্রেপ্তার রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ,গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ছিনতাইয়ের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা মামলার তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
Leave a Reply