
তথ্য প্রদানে অনীহা ও অবহেলা: প্রশ্নের মুখে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন
ব্যুরো চিফ:
নারায়ণগঞ্জের বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত কাজে অবহেলা এবং সাংবাদিকদের তথ্য না দিয়ে অসহযোগিতা ও অসোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্বার্থে সরকারি হাসপাতালের তথ্য ও বেসরকারি ক্লিনিকের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং নানা অজুহাত দেখান বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তথ্য চেয়ে এবং অনুমতি চেয়ে দূর্নীতির তালাশ টিম পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব ও বিপ্লব খান সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন তথ্য বা অনুমতি না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখান।
শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জের ‘স্টার লাইফ হাসপাতাল এন্ড ল্যাব’-এর কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স আছে কিনা—জনস্বার্থে এই তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অসোভন আচরণ করে সিভিল সার্জন বলেন, “আমি একটি কাজ নিয়ে পড়ে থাকি না।”
জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বলেন, “আমি দেখবো বিষয়টি। আমি সবাইকে বলেছি কাগজ ঠিক করে আমার কাছে জমা দিতে।”
তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন করে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়া এবং জেলার স্বাস্থ্য খাতের অরাজকতা ও অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সিভিল সার্জনের এমন গড়িমসি ও মন্তব্য সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে এমন অবহেলা ও লুকোচুরির পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থ কাজ করছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও জেলার স্বাস্থ্য খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply