1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন

ভুল তথ্য দিয়ে হাজিরার টাকা না পেয়ে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে লাথি মেরেছেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২১ Time View

ভুল তথ্য দিয়ে হাজিরার টাকা না পেয়ে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে লাথি মেরেছেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :–
ভুল তথ্য দিয়ে হয়রানি করে হাজিরার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে বুকে দুইবার লাথি মারেন এবং তাঁর মেয়েকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় অবস্থিত জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিকদের এ ঘটনা জানান জায়দা বেগম। অভিযোগকারী জায়দা বেগম রৌমারী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালে মেয়ের ওপর স্বামীর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে রৌমারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলায় ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আসছেন তিনি।

জায়দা বেগম স্বামীহারা একজন অসহায় ৭০ বছর বয়সী বিধবা। তিনি মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিতে ভিটেমাটি বিক্রি করে, পরে ধারদেনা করে মানুষের কাছে হাত পেতে আদালতে আসতেন। কিন্তু ভুল তারিখ দেখিয়ে ও ভুল তথ্য দিয়ে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া আইনজীবী মিজানুর রহমান তাঁর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ভুল তথ্যের প্রমাণ পাওয়ার পর টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চান বৃদ্ধা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করলে তাঁর মেয়ে সুমিনা বেগম প্রতিবাদ করেন। এ সময় মিজানুর রহমান সুমিনা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। মেয়ের ওপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জায়দা বেগম মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বুকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে জায়দা বেগমের মেয়ে সুমিনা বেগম বলেন, “আমার ওপর স্বামীর নির্যাতনের বিচারের জন্য আমার মা ২০২৫ সালে রৌমারী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। কিন্তু তিনি আমাদের ভুল তারিখ দিয়ে একাধিকবার অর্থ নিয়েছেন। এখন তিনি বলেন, ‘আপনাদের ডাকা হয়নি।’ এভাবে একাধিকবার ভুল তথ্য দিয়ে টাকা নিতেন। ভুল তথ্যের প্রমাণ পাওয়ার পর যখন আমার মা টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চান, তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ শুরু করেন। প্রথমে আমাকে ধাক্কা দেন। তখন আমার ৭০ বছর বয়সী মা, যিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না, তিনি এগিয়ে এলে তাঁকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং বুকে দুইবার লাথি মারেন। আমি এর বিচার চাই।”

অভিযোগকারী জায়দা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নেই, ছেলে সন্তান নেই। মামলার জন্য যেটুকু সহায়-সম্বল ছিল, সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন টাকা-পয়সা নেই। তাই ধারদেনা করি, পরে বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করি। আমি রৌমারী থেকে নৌকায় করে আসি, তারপর আবার গাড়িতে আসতে হয়। আমি উকিলকে বলেছি, আমরা গরিব মানুষ। তবুও তিনি ভুল খবর দিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা নেন। আজ আমি ভুল তথ্যের প্রমাণ পেয়ে টাকা দিতে রাজি না হয়ে আগের টাকার হিসাব চাই। তখন তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। আমার মেয়েকে ধাক্কা দেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে বুকে দুইবার লাথি মারেন। আমরা কি গরিব বলে মানুষ নই?”

ঘটনার পর বিচার চেয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দায়রা আদালত ও কুড়িগ্রাম সদর থানায় পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন জায়দা বেগম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :