
এসআই আশরাফ ও এএসআই জহিরকে ঘিরে বিতর্ক: উদ্ধার অভিযানের পক্ষে-বিপক্ষে পোকখালীতে তুমুল আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক |
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের শিকদারপাড়ায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঈদগাঁও থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আশরাফ জিকো ও এএসআই জহিরকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করছেন।
ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন, এসআই আশরাফ জিকো ও এএসআই জহির ঈদগাঁও থানার অন্যতম ভদ্র, অমায়িক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালানোর পরও তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করাকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে পোকখালী ইউনিয়নের শিকদারপাড়ায় একটি কিশোরীকে আটকে রাখার অভিযোগ পেয়ে এএসআই জহিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চালালেও ঘরের ভেতরে অবস্থানকারীরা দরজা খুলতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রথম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার এক নারী বাড়িতে প্রবেশ করে কিশোরীটিকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে রাত প্রায় ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও মহিলা পুলিশের উপস্থিতিতে এসআই আশরাফ জিকোর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে কিশোরীটিকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে উদ্ধার অভিযানের পরদিন দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার ওই নারী সংবাদ সম্মেলন করে এসআই আশরাফ জিকো ও এএসআই জহিরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনেন। সংবাদ সম্মেলনে দুই কর্মকর্তার ছবি সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হলে বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে পোকখালীর একাধিক বাসিন্দার দাবি, পুরো উদ্ধার অভিযানে পুলিশ ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। তাদের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়নি এবং কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই দুই কর্মকর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাদের ভাষ্য, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল পুলিশের প্রধান দায়িত্ব, আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তারা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
#ঈদগাঁও #পোকখালী #এসআই_আশরাফ_জিকো #এএসআই_জহির #কিশোরী_উদ্ধার #ঈদগাঁও_থানা #কক্সবাজার #পুলিশ #সংবাদ #কক্সবাজার_বান্দরবান_টাইমস24নিউজ
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply