
এডিসি রেজাউলের নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আন্না
স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ রিফাত আলী,( দেওয়ানগঞ্জ জামালপুর)
দেওয়ানগঞ্জের ডাংধরা ইউনিয়নের কারখানা পাড়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আন্না খাতুন নামের এক মহিলাকে চোর সন্দেহে বেধরক পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে এডিসি রেজাইল করিম রেজা ও তার বড় ভাই ভাই মেহের ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত
সোমবার (১৭ জুন) দিবাগত রাতে । আন্না একই এলাকার মৃত আকরম আলী মন্ডলের মেয়ে । ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এডিসি রেজাউল ও তার পরিবার । অবশেষে সাংবাদিকদের হাতে নির্যাতনের সমস্ত তথ্যাদি প্রমানসহ চলে আসে।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী আন্না খাতুন অভিযোগ করে বলে, আমি মাগরিবের নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। ওরা দেখে বলে, বল তোর সাথে কে কে আছে । তোর কাছে কি আছে বেড় কর। এসব বলে আমারে যে কি পরিমান মারছে আল্লা ছাড়া কেউ জানে না।
ভুক্তভোগীর মা সাহারা খাতুন, বোন রহিলা ও শহিলার ভাষ্য আন্না বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। এলাকার সবাই জানে। সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আন্নার স্বামীর বাড়ি পাশ্ববর্তী চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ি এলাকায়।
আন্না ঈদের দিন (১৭ জুন) পড়ন্ত বিকালে স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি কারখানা পাড়ার উদ্দেশ্য রৌনা দেয় । পথে মাগরিবের আযান দিলে আন্না নামাজ পড়ার জন্য এডিসি রেজাইল করিমের বাড়িতে ঢুকে পড়ে । বাড়ি থেকে আর বের হয়নি। এডিসি রেজাউলের পরিবারের লোকজন আন্নাকে বাড়ির ভিতরে দেখে । এরপর রেজাউল ও তার ভাই মেহের চোর সন্দেহে বেধরক পিটায় । আন্না পাশের পাড়ার বাসিন্দা পরিচয় দিলেও কোন কথা মানতে চায়নি। মারধরের পর পরদিন সকালে ১৮ জুন সানন্দবাড়ি ফাঁড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এডিসি রেজাউল।
আন্নার মা আরো বলেন আমরা পুলিশের পা ধরে অনেক কান্না করি তবুও ছাড়লো না । পরে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সিরাজুল মেম্বার, আক্তার মেম্বার সহ অন্যান্যরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর পরিচয় নিশ্চিত করলে থানা পুলিশ ছেড়ে দেয় । বাড়িতে এসে আন্নার ফোলা জখম শরীর দেখে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছি ।
হাসপাতালের তথ্য ও মেডিকেল রিপোর্ট থেকে জানা যায়, আন্নার শরীরের থাই সোল্ডার ও বাহুতে ৪*৪ সে.মি জখম রয়েছে । এবং
এক্সরে ফিল্মে দেখা যায় আন্নার বাম হাতের রেডিয়েস ভেঙ্গে গিয়েছে । গত ২২ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলেও অর্থের অভাবে ফ্রি চিকিৎসার আশায় স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর বারান্দায় ঘুরছে আন্না ও তার মা।
হতাহতের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সহ এলাকাবাসীরা বলেন রেজাইল করিম রেজা রংপুর জেলার আতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে আছে। দায়িত্ববান ব্যাক্তি হিসাবে তার কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি । এদিকে কারখানা পাড়া সহ পাশ্ববর্তী সোনাকোড়া পাড়া এলাকায় বইছে নিন্দার ঝড় । ডাংধরা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান ঘটনাটি জানেন ।
সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, ঐ বাড়িতে এর আগে কয়েকবার চুরি হয়েছে। তাদের বাড়িতে এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মহিলাকে দেখতে পেয়ে তারা থানায় দিয়েছে । মহিলা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সত্যতা পেয়ে স্থানয়ি ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে তার পরিবারের হাতে ছেড়ে দিয়েছি ।
এডিসি রেজাইল করিম রেজার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি কিন্তু তার ভাই মেহের ও তার মা বলেন কথা বের করার জন্য হালকা চরথাপরা দেওয়া হয়েছে ।
উল্লেখ্য হতাহতের ঘটনার সত্যতা থাকায় এলাকাবাসীর দাবি আন্নার উন্নত চিকিৎসা করা হোক এডিসি রেজাইল করিম রেজার পক্ষ থেকে ।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply