
মো: মোসাদ্দেক হোসেন মইন , স্টাফ রিপোর্টার।
আজ ৭মে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা’র অপহরণ দিবস। তাঁদেরকে রাতের অন্ধকারে নারায়ণগঞ্জস্থ কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট হতে অপহরণ করা হয়। আজও তাঁদের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।
দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর পুত্রের অপহরণ দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করা হয়। দুপুর ১২ঃ০০ টা থেকে খাবার পরিবেশন করা হয় এবং তা সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত চলমান থাকে।
১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা মিলে নিরীহ ৫৭ জন গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে, বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ করে, লুটতরাজসহ সাধারণ মানুষের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। সেসব বর্বরোচিত নির্যাতনের স্মৃতি চারণ করতে গেলে আজও শিউরে ওঠে গা।
দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ মানব দরদী। চিন্তা চেতনায় তিনি ছিলেন একজন উদার মনের মানুষ। দারিদ্রতা একজন মানুষের জীবনে কতটা পীড়াদায়ক ছোটবেলায় তিনি তা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।আর এ বুঝতে পারা থেকেই তিনি সর্বদা দুঃখী মানুষের কথা ভেবেছেন, সারাটা জীবন কাজ করে গেছেন মানবতার কল্যাণে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বলে তাঁর কাছে কোন ভেদাভেদ ছিল না। তিনি মানুষকে শুধুমাত্র মানুষ হিসেবেই দেখতেন, আর সে কারণে তিনি মানব কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন কুমুদিনী হাসপাতাল সহ অসংখ্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান।সদা মিষ্টভাষী এই মানুষটি তাঁর কাজের মাধ্যমে সকলের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। ৭১এর ঘাতক দালালদের এটি সহ্য হয়নি। ৭মে রাতের অন্ধকারে পুত্র ভবানী প্রসাদ সহ পাকিস্তানি দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। ধারণা করা হয় তাঁদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা বেঁচে থাকলে এলাকার আরো অনেক উন্নতি হতো বলে সকলের ধারণা। বর্তমানে রাজিব প্রসাদ সাহা কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার অসমাপ্ত স্বপ্নপূরণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply