
পলাশবাড়ীতে দুই ছাত্র সংগঠনের রণক্ষেত্র: ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিবাদমান গ্রুপের ছোড়া ইটপাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। গত ১৭ মে (রবিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমাথা মোড়ে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সরকারি কলেজের এক ছাত্র সংগঠনের কর্মীকে মারপিট করাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেল গড়াতেই উভয় পক্ষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে অবস্থান নিলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলা: সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ার আলম খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার এক পর্যায়ে মহাসড়কের উত্তর দিক থেকে এক পক্ষ পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। মারমুখী পরিস্থিতির মুখে পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে পিছু হটে থানায় অবস্থান নেন।
ককটেল বিস্ফোরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন অন্তত তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ব্যস্ততম চৌমাথা মোড় জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে। এতে বড় ধরণের হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পলাশবাড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে শহরে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply