
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৪৫০০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া
স্টাফ রিপোর্টার,
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের গ্রাহক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকের বিরুদ্ধে ৪৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন।
গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের দাবি, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামসহ অবদানে কোম্পানির তহবিলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেক নিজেদের অনুগত লোক বসিয়ে ভুয়া খরচ, কাগুজে বিনিয়োগ ও ম্যানেজমেন্ট কারসাজির মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। ফলে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না এবং অনেকে কোম্পানির অফিসে গিয়ে আহাজারি করছেন।
রিকোভারি সেকশনের ইনচার্জ মাসুদ বলেন, “নজরুল-খালেকরা নজিরবিহীন লুটপাটের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে শেষ করে দিয়েছে।”
সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
২৩ অক্টোবর: অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে দুদক। পরে আদালত তাঁর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২৬ অক্টোবর: দুদক কার্যালয়ের সামনে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও গ্রাহকরা মানববন্ধন করে ৪৫০০ কোটি টাকা উদ্ধার এবং নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা দুদকে স্মারকলিপিও জমা দেন।
দুদকের তদন্তে এরই মধ্যে জমি ক্রয়, ভুয়া বিল-ভাউচার ও অন্যান্য লেনদেনের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, এই লুটপাটের কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দুদকের তদন্ত চলছে এবং আরও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও কর্মকর্তারা দ্রুত অর্থ উদ্ধার ও জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply