
‘মাদক আনতে গিয়ে’ সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
মোঃ আব্দুর রব : সিলেট বিভাগীয় প্রধান
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় খাসিয়াদের বন্দুকের গুলিতে আরেক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার “৯ এপ্রিল” রাতে সীমানা পিলার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ভারতীয় খাসিয়াদের সুপারি বাগানে এই ঘটনা ঘটে।
এনিয়ে ৯ দিনের ব্যবধানে একই সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হলেন।
নিহত যুবকের নাম সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০)। তিনি কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিহত সালেহ আহমেদ আরও দুই সহযোগীসহ মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা ভারতের অভ্যন্তরে চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
খবর পেয়ে ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহতের সঙ্গে থাকা অপর দুই যুবক সুমন মিয়া (২৫) এবং মাসুম আহম্মদ (২০) সালেহ আহমদের মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। সঙ্গে থাকা দুই যুবক নাজিরগাঁও গ্রাম ও কারবালারটুক গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবি আরও জানায়, নিহত যুবকসহ তিনজন দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার (চোরাচালান) কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে লাশ সুরতহাল করার জন্য।
এরআগে গত ১ এপ্রিল একই উপজেলার সাদ্দাম হোসেন নামের এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহত হন।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি চুরি করতে যান সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন।
এসময় সুপারি বাগানের মালিক খাসিয়ারা গুলি চালালে সাদ্দাম হোসেন নিহত হন ও তার সঙ্গী ফরহাদ মিয়া আহত হন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply