1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

১৭ বছরেও পূর্ণতা পায়নি ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার-স্মৃতি জাদুঘর।

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ২১৭ Time View

১৭ বছরেও পূর্ণতা পায়নি ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার-স্মৃতি জাদুঘর।
ফারহান (পারভেজ)
ময়মনসিংহ, গফরগাঁও জেলা প্রতিনিদি।
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ গানে যখন মুখরিত ঢাকার রাজপথ, তখন পুলিশের গুলিতে রক্তে রঞ্জিত হয় পিচ-ঢালা পথ। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ অনেকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে শহীদ হন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি ১৭ বছরেও পূর্ণতা পায়নি। গ্রন্থাগারে ৪১৭৬টি বই থাকলেও জাদুঘরটিতে নেই শহীদ আবদুল জব্বারের ব্যবহারের কোনো জিনিসপত্র। চলাচলের রাস্তাটিরও বেহাল অবস্থা। বছরের একটা দিন ছাড়া অন্য সময় থাকে দর্শনার্থী শূন্য। স্থানটিকে আকর্ষণীয় করার দাবি স্থানীয়দের। কর্তৃপক্ষ বলছে, দর্শনার্থী বাড়াতে নেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা।
জানা যায়, গফরগাঁও উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের গ্রামের বাড়ি পাঁচু্য়াতে ছিল না কোনো শহীদ মিনার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরে ২০০৩-৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সুলতানের পরিকল্পনায় জেলা যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ও স্থানীয় লোকজন কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন শুরু করে। পরবর্তীতে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সুলতানের চেষ্টায় সরকারিভাবে ২০০৫ সালে ভাষা শহীদের গ্রামের স্থাপন করা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শহীদ জব্বার রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়।

ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের নামে ২০০৮ সালে তারই জন্মস্থান ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়াতে প্রতিষ্ঠা হয় ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। সেইসঙ্গে গ্রামের নামকরণ করা হয় জব্বার নগর। ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণতা পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। পর্যাপ্ত পরিমাণে বই, ভাষা শহীদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র, পত্রিকা, ইন্টারনেট না থাকায় দিন দিন কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। ফাঁকা পড়ে থাকে গ্রন্থাগারের টেবিল চেয়ার গুলো। ফেব্রুয়ারিতে দূর দূরান্ত থেকে আসা কিছু দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময় এখানে থাকে দর্শনার্থী শূন্য। ১৭ বছরেও হয়নি ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের নামে জব্বার নগরের গেজেট।

বিজ্ঞাপন

সারা বছর সরব না থাকলেও ভাষার মাসে লাখো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় পাঁচুয়ার শহীদ আব্দুল জব্বারের জন্মস্থান জব্বারনগরে। এখানে সরকারি পর্যায়ে উদযাপিত হয় অমর একুশের অনুষ্ঠানমালা। তবে দুঃখজনক বিষয় চার হাজার একশত ছিয়াত্তরটি বই সংগ্রহ নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা গ্রন্থাগার ও জাদুঘর কোলাহলশূন্য অলস হয়ে পড়ে আছে। বিশাল হলরুমে চেয়ার টেবিল ফাঁকা পড়ে আছে। মাঝে মধ্যে উঁকি দিয়ে যায় কিছু দর্শনার্থী। ছুটির দিন বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর। নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা, তাদের জীবনী এবং স্মৃতি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে রাষ্ট্র, এমনটাই প্রত্যাশা আমার।

স্থানীয় জহিরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, গত ১৭ বছরের গ্রন্থাগারটিকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়নি। এখানে ইন্টারনেট সেবা নেই। এছাড়াও জব্বার নগর নামে নামকরণের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান বলেন, অনেক আন্দোলন করে এবং কয়েকবছর কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে উদযাপন করার পর ভাষা শহীদ আবদুল জব্বারের বাড়িতে শহীদ মিনার ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি যেভাবে পাঠকরা আকৃষ্ট হয় সেই পরিকল্পনা নেওয়া, দ্রুত এলাকার নামকরণ জব্বার নগর গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভাষা শহীদের নামে শহীদ আবদুল জব্বার কারিগরি কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার বলেন, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটির সংস্কার চলছে। বাকি সংস্কারের জন্য নেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :