
পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ জেলা পুলিশের কম্বাইন্ড অভিযান : ডাবের পানি খাইয়ে অজ্ঞান করা সহ বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণা এবং মানুষের সম্পদ হাতিয়ে নেয়া চক্রের ০৪ সদস্য গ্রেফতার, অপরাধের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল, টাকা জব্দ এবং অটোরিকশা উদ্ধার।
নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল টেলিফোন মারফত জানতে পারেন গত ১০/০৭/২৬ তারিখে বেলা ১০.৩০ ঘটিকায় একজন ব্যাক্তি অটো রিক্সা চালকের রিক্সা রিজার্ভ ভাড়ানিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রুগি দেখার কথা বলে ভাড়া করে। রিক্সা নিয়ে চালক হাসপাতালে গেলে আরো দুইজন ব্যাক্তি তাদের নবাগত শিশু জন্ম গ্রহন করায় তাদের মিষ্টি খেতে দেয়। যার পুরোটাই ছিল মিথ্যা অভিনয়। এর মাধ্যমে তারা অটো চালকের বিশ্বাস অর্জন করে। পরে চালকে একটা ডাব খেতে দেয়। যে ডাবের মধ্যে তারা আগেই বিষাক্ত চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে দেয়। চেতনানাশক মিশ্রিত ডাবের পানি খেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই অটো চালক অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আর সেই সুযোগে তারা অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনা জানার পর পুলিশ সুপার দ্রুত সদর থানা কে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সাথে জেলা গোয়েন্দা শাখা কেও অভিযান চালানোর বিশেষ নির্দেশনা দেন। সি সি ফুটেজ, বিভিন্ন অপরাধীদের ডাটা বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসামি সনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে নওগাঁ সদর থানার টীম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ টীম বগুড়া ও গাইবান্দা জেলায় একটানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান দিন-রাত পরিচালনা করে ১২-০৭-২৬ তারিখে চার জন আসামি গ্রেফতার করে, যারা ১৩ তারিখে এসে জেলায় হাজির হয় । সেই সাথে গাইবান্ধা থেকে হাতিয়ে নেয়া অটো রিক্সাটা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি দের নাম
১ ইব্রাহীম @ ইমন ( ৩৪) পিতা মন্ত মিয়া সাং লোহাই মুরি থানা বুড়িচং জেলা কুমিল্লা ২। হুমায়ন কবির (৫০)
পিতা মৃত ইসাইল হোসেন গ্রাম খেজুর তলা থানা ও জেলা বরগুনা ৩। খাজা মিয়া ( ৫৬) পিতা মৃত মজিবর রহমান গ্রাম ফুল দিঘি পূর্ব পাড়া থানা শাহজাহান পুর জেলা বগুড়া ৪। আব্দুল গফুর (৪১) পিতা মৃত ছই মুদ্দিন সাং জিরাই থানা গোবিন্দ গঞ্জ জেলা গাইবান্ধা।
অভিযান কালে রিক্সা বিক্রয় করার ইব্রাহিম @ ইমনের ১৪৩০ টাকা ও চার টা মোবাইল ১০ পিচ রিবোর্টিল ঘুমের ট্যাব্লেট। আসামি হুমায়ুনের নিকট রিক্সা বিক্রয় করার দশ হাজার টাকা ও দুই টা মোবাইল আর ১ টা পালসার মোটার সাইকেলে জব্দ করা হয়। আসামী গফুরের নিকট ভিক্টিমের চুরি করা অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়। আসামি খাজার নিকট দুইটা মোবাইল উদ্ধার করে জব্দ করা করা হয়।
গ্রেফতার কৃত আসামীগন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে। আসামে ইব্রাহিম এবং হুমায়ুন এদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ দেশের বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলা আছে। বেশ কয়েক বছর যাবৎ তারা মানুষকে ডাবের পানি খাইয়ে, ডাবের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে, মানুষকে ভুলভাল বুঝিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল এবং মানুষের টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে খাজা মিয়া এবং আব্দুল গফুর হচ্ছে শালা- দুলা ভাই। এরা প্রতারকদের সম্পদ কিনে বিক্রি করে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply