
গোবিন্দগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান: ড্রেজার ধ্বংস ও ২ জনের কারাদণ্ড।
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন হাওয়াখানা এলাকায় পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশীদ ইরাম খান।
অভিযান চলাকালে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয় এবং বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আটক দুই ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দেড় লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম উদ্দিনের ছেলে মিণ্টু প্রধান (৪০) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল চন্দ্রহাট্টা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহিনুর মণ্ডল (৩৬)। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মূল হোতা হিসেবে পরিচিত বোয়ালিয়া গ্রামের মনছেরের ছেলে শামীমসহ আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়ছার লিংকনের অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে আসছিল— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই আজকের এই তড়িৎ অভিযান।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশীদ ইরাম খান বলেন, “সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে যারা পরিবেশ ও জনস্বার্থের ক্ষতি করে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপশক্তির কাছেই নতি স্বীকার করা হবে না।”
এলাকার পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply