
অ-সচেতনতার কারনে বাগেরহাটে
বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ
এস এইচ রতন/.প্রতিনিধি
দিন দিন বাগেরহাটে বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ডেঙ্গুরতে আক্রান্ত রোগীরা। চিকিৎসকরা বছছেন, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিসস্তার করায় ও মানুষের অসচেতনতার কারনে বাগেরহাটে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিস জানায়, বুধবার বিকাল পর্যন্ত জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪২জন। গত দুই মাসে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন বাড়ি ফিরেছেন ২৩৬ জন।
বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত কচুয়া উপজেলার সোহরাব হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলাম। ওষুধ খেয়েও জ্বর কমছিল না। পরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসি। হাসপাতালে এসে পরিক্ষা শেষে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসা নিচ্ছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত আমেনা বেগম জানান, ডেঙ্গুর এরকম জ্বর আগে কখনো হয়নি। এখনো হাত-পায়ে কোনো শক্তি পাই না। একদমই নড়াাচড়া করতে না পারা অবস্থায় ছেলে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডাক্তাররা টেস্ট করে দেখে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। এখানে চারদিন ধরে ভর্তি আছি। এখনও সম্পূর্ন সুস্থ্য হয়ে উঠিনি।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গত মাসের তুলনায় চলতি মাস ও সামনের আগষ্ট মাসে ডেঙ্গু সংক্রমনের এই প্রকোপ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, এই হাসপাতালে হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েগেছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেয় যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম জানান, বাগেরহাট জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনায় এডিস মশা যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেজন্য চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।##
বাগেরহাট
০৮. ০৭. ২০২৬
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply