1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাটে জাল দলিল দিয়ে খাস জমি নামজারীর অভিযোগ! জমি অধিগ্রহণের তিন কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত!

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ Time View

সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাটে জাল দলিল দিয়ে খাস জমি নামজারীর অভিযোগ! জমি অধিগ্রহণের তিন কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত!
নিজস্ব প্রতিনিধি,

দিন যতই যাচ্ছে ততই থলের বিড়ালের ন্যায় বেড়িয়ে আসছে সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাটের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডলের দুর্নীতির নাতিদীর্ঘ খতিয়ান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সুপরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমানিত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কর্তৃক জাল দলিল সৃজন করে ১নং খতিয়ানের সরকারী খাস জমি নামজারি করে নিয়েছে। সেই জমির কাগজপত্র গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের অধিগ্রহণ শাখায় জমা দিয়ে জমি বন্দোবস্তের বরাদ্দকৃত তিন কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে।

প্রকাশ, সম্প্রতি ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ জন্য সরকার সাদুল্লাপুরের হাসানপাড়া মৌজায় সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে। এই জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জমি ও স্থাপনা বাবদ ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা দেয়া হয়। এই টাকা উত্তোলন করেন পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার সয়েকপুর মৌজার মৃত শাহাদত হোসেন মন্ডলের পুত্র ও একই উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, তার ভাই উমর ফারুক মন্ডল, তার মা জাহানারা বেগম, তিন বোন শহিদা বেগম, মরিয়ম বেগম ও শরিফা বেগমসহ মোট ৬ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিগ্রহণ করা ওই জমিটি মূলত অর্পিত সম্পত্তি! এই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে খোদ ভূমি অফিসেরই দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন রয়েছে। যার মধ্যে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাদুল্লাপুরের এসি ল্যান্ড এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেন যে এই সম্পত্তিতে সরকারের কোন স্বার্থ জড়িত নেই। অথচ ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আরেক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে।

সুত্র জানায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সাবেক ৭৬ দাগের সাড়ে ছয় শতক জমি অর্পিত ‘ক’ তালিকাভুক্ত, যা বাংলাদেশ গেজেটের ৪৫১০ নম্বর পৃষ্ঠার ১২৪ নম্বর ক্রমিকে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখিত তিন কোটি টাকা প্রদানের পর এই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় আপত্তি দিয়েছিলেন একই ইউনিয়নের আসাদুল্লাহ ফারুকী নামের জনৈক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষ জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন।

এদিকে সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডল এই সকল দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তারা একে অপরের সহযোগিতায় উল্লেখিত তিন কোটি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলেন বিশাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মুল নায়ক তৎকালীন ধাপেরহাট ইউনিয়নের সাবেক ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডল সাবিন বলে জানা গেছে।

সুত্র আরো জানায়, তাকে সহযোগিতা করেন তৎকালীন এসি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আরিফুর রহমান ও এসি ল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাদুল্যাপুরের তৎকালীন ইউএনও মোঃ নবী নেওয়াজ। পরবর্তীতে জড়িয়ে পড়েন অধিগ্রহণ সেক্টরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

তাদের এই সুদুর প্রসারী দুর্নীতির নীল নকশা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে সুপরিকল্পিত ভাবে সহযোগিতা করেন সাদুল্যাপুরের এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন। তিনি গাইবান্ধার দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিতও করেন। পড়ে একে একে ফাঁস হয়ে যায় তাদের দুর্নীতির নীল নকশা। তাৎক্ষণিক ভাবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে এসি ল্যান্ড দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় শান্তিমুলক বদলী করা হয় বটে তিনি এখনো সাদুল্যাপুরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সময়ে সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম মন্ডল কর্তৃক সরেজমিন তদন্ত না করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ১/১ খতিয়ান ভুক্ত ১৪ শতাংশ জমি নামজারির প্রস্তাব করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে এই নামজারির জন্য আবেদন করেন পীরগঞ্জ উপজেলার সয়েকপুর মৌজার মৃত শাহাদত হোসেন মন্ডলের পুত্র ও রামনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর গং।

আবেদন পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় ১/১ খতিয়ানের জমির তথ্য। যে দাগের জমি নামজারি করে দেন সেই জমির সাবেক দাগ নং ৭৬, হাল দাগ নং ১১২। এই দাগ নাম্বারের জমি ১৯৭৮ সালে রামকান্ত সাহার পুত্র পুর্ণ চন্দ্র সাহার নামে ১৩ শতাংশ জমি লিজ প্রদান করা হয়েছে। যার আবেদন নং ১১৩/৭৮, লিজ প্রদানের তারিখ- ১৫/০৭/১৯৭৮ ইং।

এদিকে, নামজারির আবেদন পত্র মতে, ১৯৮৪ সালের ১২, ১৮ ও ২৩ জানুয়ারি তারিখে রেজিঃকৃত ৭১৩, ৭১৪ ও ৭১৫ নং তিনটি দলিল নামজারির আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই স্পষ্টত, যে ১৩ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সালে পুর্ণ চন্দ্র সাহার নামে লিজ প্রদান করা হয়, যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশিত গেজেট রয়েছে!

শুধু তাই নয়, ৭১৩, ৭১৪, এবং ৭১৫ নং একই সিরিয়ালের তিনটি দলিল ১২ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি মোট ১২ দিনে রেজিঃ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, তা সম্পন্নরুপে ভুয়া তথ্য বা ভুয়া দলিল! মুলতঃ উল্লেখিত ৭১৩, ৭১৪ ও ৭১৫ নাম্বারের দলিল তিনটি রেজিস্ট্রেশন হয় ৩০/০১/১৯৮৪ ইং তারিখে। যার বালাম নং ০৭। উল্লেখিত সম্পন্নকৃত দলিল তিনটির দাতা রয়েছে আজিম উদ্দিন আকন্দ, তার সাং আরজি তরফ কামাল এবং জমি গ্রহিতা রয়েছে ৭১৩ নং দলিলে আবুল হোসেন ব্যাপারী, ৭১৪ নং দলিলে জমি গ্রহিতা রয়েছে কাজু মিয়া ও ৭১৫ নং দলিলে জমি গ্রহিতা রয়েছে মোনোয়ারা খাতুন। এই মোনোয়ারা খাতুন জমি দাতা আজিম উদ্দিন আকন্দের কন্যা।

তাই এলাকার সচেতন মহলের অভিমত- এই জাল দলিলের ইতিহাস সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডল সাবিন অবশ্যই অবগত ছিলেন। নয়তো- দলিলগুলো সংশ্লিষ্ট রেকর্ডরুম থেকে যাচাই না করেই অফ ডে সহ মাত্র ১ মাস ১০ দিনে তড়িঘড়ি করে জমির নামজারি করার রহস্য কি?

সুত্র আরো জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর’ ২০১৯ ইং তারিখে নামজারির আবেদনের প্রেক্ষিতে তহশীলদার মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডল প্রেরিত প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন ২৯/১০/২০১৯ ইং, নামজারির পর্চায় ১৭/১১/২০১৯ ইং তারিখে স্বাক্ষর করেন সার্ভেয়ার মোঃ আরিফুর রহমান। তিনি বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ এসি ল্যান্ড অফিসে কর্মরত এবং ২৯/১১/২০১৯ ইং তারিখে এসি ল্যান্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নবীনেওয়াজ স্বাক্ষর করেন। তিনি ২০২১ সালে এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগদান করেন।

মজার ব্যাপার হলো- এই সম্পত্তি যদি অর্পিত সম্পত্তি হয়, তাহলে কিভাবে নামজারি করা হলো? অধিগ্রহণের এই টাকা কিভাবে পরিশোধ করা হলো? ক্ষতি পূরণেরl টাকা উত্তোলনকারী জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের দাবি, তার মালিকানার পর্যাপ্ত কাগজপত্র ও প্রমাণেরl ভিত্তিতেই তিনি টাকা উত্তোলন করেছেন। এ বিষয়ে এলএ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই জবাব দেবেন।

সুতরাং জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর তার পর্যাপ্ত কাগজপত্র বলতে জাল দলিল তিনটিকে বোঝানো হয়েছে বটে। সুতরাং জাল দলিল ও অর্পিত সম্পত্তির ইতিহাসl গোপনে গোপনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা- কর্মচারী অবগত ছিলেন বটে? নয়তো- ভূমি অফিসের দুই রকম প্রতিবেদনের বিষয়ে সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিনের অশোভন আচরণ, তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা কর্তৃক নিজে কোন মতামত না দিয়ে কৌশলে খাসজমি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ও সাদুল্লাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য নেয়ার পরামর্শ দেয়া এবং ইউএনও কর্তৃক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হওয়া ছাড়াও উল্টো এসিল্যান্ডের মত আচরণের হুমকি দেয়া, এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা আশরাফুল হক মন্তব্য করতে রাজি না হওয়ার রহস্য কি (!)? অথবা- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন ‘নিয়ম মেনে প্রকৃত মালিককেই অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করার রহস্য কি(!)?

তাই এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল পুনঃ মতামত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, বিষয়টি যেহেতু কমপক্ষে তিন কোটি টাকার। তাই এলএ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী সহ এসি ল্যান্ড ও তার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ও সাবেক তহশীলদার মোঃ শামসুল ইসলাম মন্ডল সাবিন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত এবং সুপরিকল্পিত ভাবে তাদের গড়ে তোলা বিশাল একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। সুতরাং ভুমি বিভাগের এই বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট যে কর্মকর্তা/কর্মচারীই জড়িত থাক, নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :