
হঠাৎ একটা লোক আমাকে দেখে দৌড়ে পালাচ্ছিল । তিনি আসামি কি না, আমি জানতাম না । আমি ইউনিফর্ম পড়া ছিলাম না । সিভিল পোশাকেই ছিলাম । আমার মোটরসাইকেলের পিছনে আমার একজন সহকর্মী ছিল । মোটরসাইকেল দাঁড়ানো দেখেই লোকটা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে । আমার সহকর্মী ও পিছনে দৌড়াতে লাগলেন । আমি নতুন যোগদান করেছি । এলাকাও খুব একটা চিনি না । আমিও পিছনে পিছনে যাচ্ছিলাম । লোকটা নদীতে ঝাঁপ দিলেন । নদীতে হালকা স্রোত ছিল । নদীটা প্রায় ৩০০ গজের মতো চওড়া ছিল । ছোট একটা বাজারের পাশে হওয়ায় আসামি এবং পুলিশের দৌড়ের বিষয়টা আশেপাশের মানুষ বেশ উপভোগ করছিল । তখন ছিল শীতকাল । কোন উপায় না পেয়ে, শরীর থেকে জ্যাকেট খুলে সহকর্মীর হাতে দিয়ে নেমে পড়লাম নদীতে । নদীর সাথে নিয়ে ওপারে গিয়ে আটক করতে সক্ষম হলাম । জিজ্ঞেস করলাম— কেন দৌড়িয়েছেন ?
তিনি বললেন— তার নামে নাকি চারটা ওয়ারেন্ট আছে ।
আসামিকে আটক করাই আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল না । উদ্দেশ্য ছিল,,,, যে আসামি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন, তিনি যদি সাঁতার না জানতেন অথবা কোন কারনে তিনি যদি মারা যান, তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছি। আল্লাহ না করুক তিনি যদি মারা যেতেন, তখন কি হতো ??
——তার নিকট আত্মীয়রা- এক ধরনের মন্তব্য করত
—-নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো এক ধরনের মন্তব্য করত ।
——নীল লেখক যারা আছেন, তারা এক ধরনের মন্তব্য করত ।
——-হলুদ লেখক যারা আছেন, তারা এক ধরনের মন্তব্য করত ।
——-ফেসবুকের মাধ্যমে যারা ঘটনা জানতো, তারা এক ধরনের মন্তব্য করত । হয়তো আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশি হতো। তাতে কোন সমস্যা নেই ।
কেননা, আসামির কোন ধর্ম নেই ।
আসামি মুসলমান হতে পারে । হিন্দু সম্প্রদায়ের হতে পারে । বৌদ্ধ হতে পারে । খ্রিস্টান ধর্মালম্বীও হতে পারে।
যে ধর্মেরই হোক না কেন, তিনি তো মানুষ । মানুষ হিসেবে একজন মানুষের সেবা করা আমার দায়িত্ব । তারপরও আবার মহান আল্লাহতালা সুযোগ করে দিয়েছেন, একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ।
আমি গর্বিত এই কারণে যে, আমি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী একজন নগণ্য সদস্য ।
সবার জন্য শুভকামনা সবসময় ।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply