
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নং রনগাঁও ইউনিয়নের হাটরামপুর গ্রামের মঙ্গলু কর্মকার (৬৫) ও তার স্ত্রী সুভরানী কর্মকার (৫৫) যুগলভাবে কামারশিল্পের কাজ করে যাচ্ছেন। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখা এই পরিবারটি এখন জীবিকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি ছুরি তৈরির কাজে ব্যস্ত। আগুনের তাপে উত্তপ্ত লোহা হাতুড়ির
আঘাতে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে মাংস কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে। টুংটাং শব্দে মুখর ছোট্ট কামারশালায় চলছে তাদের দৈনন্দিন সংগ্রাম।
মঙ্গলু কর্মকার জানান, এটি তাদের পারিবারিক পেশা। তার বাবা প্রয়াত সুপল কর্মকারও এই কাজ করতেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি এই পেশার হাল ধরেন। বর্তমানে তার ছেলে নারায়ণ কর্মকারও এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শঙ্কিত।তিনি বলেন, “এই পেশা আমাদের ঐতিহ্য। তাই ছাড়তে পারি না। কিন্তু এখন খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। কোরবানির ঈদের সময় কিছু কাজ বাড়লেও সারা বছর দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলে।”
তিনি আরও বলেন, পুঁজির অভাবে বড় পরিসরে কাজ করতে পারেন না। ৪-৫ হাজার টাকার লোহা কিনে কাজ করার মতো টাকাও হাতে থাকে না।
সুভরানী কর্মকার বলেন, “স্বামীর সঙ্গে আমিও প্রতিদিন কামারশালায় কাজ করি। অনেক কষ্ট হলেও বাপ-দাদার এই পেশা এখনো ধরে রেখেছি।”
মঙ্গলু কর্মকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্যান্য পেশাজীবীরা সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা পেলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখা কামাররা এখনো অবহেলিত। তার মতে, যথাযথ সহায়তা না পেলে একসময় এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় ক্রেতা মাহাবুব হোসেন বলেন, “ঈদের সময় দা, ছুরি ও বটি কিনতে হয়। আগের মতো কামারের তৈরি জিনিসের চাহিদা এখনও আছে। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় পণ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে।”স্থানীয় ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে গ্রামে অনেক কামারশালা ছিল। এখন দিন দিন কমে যাচ্ছে। তরুণরা এই পেশায় আসতে চায় না। সরকারি সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply