
জামাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী আজিজ দোকান
কর্মচারী থেকে শত কোটি টাকার মালিক!
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
`জামাই স্টোরে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ক্ষতিকর কেমিক্যাল সাল্টু পাউডার জব্দ ও জরিমানার ঘটনা গাইবান্ধা শহরে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় জামাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আজিজের অবৈধ ব্যবসা ও কর্মকান্ড জনসম্মুখে প্রকাশ হচ্ছে। তিনি প্রথম জীবনে আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন। অবৈধ কাজে জড়িত থাকার দায়ে চাকরি চলে গেলে তিনি শহরের পুরাতন বাজারে একটি গালামালের দোকানে চাকরি নেন। তখন থেকেই সকলের কাছে তিনি জামাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর সেই থেকেই তার উত্থান শুরু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুরাতন বাজারের একাধিক দোকানদার জানান, জামাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আজিজ এক সময় আনসার বাহিনীতে চাকরি করতেন। চোরাচালান সংক্রান্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করে কর্তৃপক্ষ। চাকরি হারিয়ে তিনি পুরাতন বাজারের মিন্টু মিয়ার দোকানে কর্মচারী হিসেবে চাকরি নেন। এই মিন্টু মিয়াই গাইবান্ধা শহরে প্রকাশ্যে পলিথিন ব্যবসার সুত্রপাত করেন। পলিথিন ব্যবসা সরকার নিষিদ্ধ হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় সেই ব্যবসা অবাধে চলতো। আনসার বাহিনীর চাকরি করার সুবাদে আব্দুল আজিজকে ওইসব সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সম্পর্ক করার দায়িত্ব দেন মিন্টু মিয়া। এই আব্দুল আজিজের পরামর্শেই মিন্টু মিয়া ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মিন্টু মিয়া তাকে এতটাই বিশ্বাস করতেন যে, তার কথা ছাড়া পারিবারিক ও ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো কাজই করতেন না। মিন্টু মিয়া তাকে জামাই হিসেবে গন্য করতেন। মিন্টু মিয়া জামাই বলার কারণে সকলেই তাকে জামাই হিসেবে সম্বোধন করতেন। একসময় দোকান কর্মচারী আব্দুল আজিজের পরামর্শেই মিন্টু মিয়া গাইবান্ধায় পলিথিন ব্যাগ তৈরির মেশিন আমদানি করেন। মেশিন বসানো হয় শহরের কুঠিপাড়ায়। এই মেশিন বসিয়ে মিন্টু মিয়া পলিথিন ব্যাগ তৈরি করে গোটা উত্তরাঞ্চল সরবরাহ করতেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট র্যাব অভিযান চালিয়ে মেশিন জব্দ ও ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়াকে আটক করেন। শেষে আব্দুল আজিজই মিন্টু মিয়ার জামিনের জন্য হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
কর্মচারী হলেও আব্দুল আজিজ ভুল বুঝিয়ে অসৎ পরামর্শ দিয়ে মালিক মিন্টু মিয়ার ব্যবসা থেকে লাখ লাখ টাকা লাভবান হন। পলিথিনের অবৈধ ব্যবসা চালাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মিন্টু মিয়ার কাছ থেকে। মূলত আব্দুল আজিজের কূট কৌশলের কাছে হেরে গিয়ে একসময়ের নামকরা ব্যবসায়ী পথে বসেন। এরপর আব্দুল আজিজ জামাই স্টোর নাম দিয়ে আলাদা ব্যবসা শুরু করেন। তিনি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে পলিথিনসহ নানা অবৈধ ব্যবসা চালাতেন থাকেন। শহর ছাড়াও সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে তার সব অবৈধ ব্যবসার একাধিক বড় বড় গুদাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে গাইবান্ধার এনডিসি সাব্বির আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত ডিবি রোডের জামাই স্টোরে অভিযান চালিয়ে ৭১ বস্তা ক্ষতিকর কেমিক্যাল সাল্টু জব্দ করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply