
দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পুনরুদ্ধার হওয়া সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়র খাল আবারও দখল ও দূষণের কবলে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু মহল পুনরায় খালের অংশ বিশেষ দখল করে ভরাট ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে করে একদিকে যেমন পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।
এই অবস্থার প্রতিবাদে এবং খাল দখল-দূষণমুক্ত করার দাবিতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী বন্ধন ও নাগরিক অবস্থান কর্মসূচি। কবি পল্টু বাসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি পরিণত হয় এক দৃঢ় নাগরিক ঐক্যের প্রতীকে।
বক্তারা বলেন, প্রাণসায়র খাল শুধু একটি জলাধার নয়—এটি সাতক্ষীরার প্রাণপ্রবাহ ও ঐতিহ্যের অংশ। খালটি দখল ও দূষিত হলে শহরের জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ-এর সাধারণ সম্পাদক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, দখলদার ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় নাগরিকরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, খাল দখল ও দূষণ সরাসরি পরিবেশ আইন লঙ্ঘন। প্রয়োজন হলে আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সাংবাদিক ও নাগরিক নেতা আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, বারবার আন্দোলন করে খাল উদ্ধার করা হয়, আবারও তা দখল হয়—এটি নাগরিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। প্রশাসনের নীরবতা দখলদারদের উৎসাহিত করছে।
দৈনিক মানবজমিনের সাংবাদিক ও ভিবিডি’র সাধারণ সম্পাদক এসএম বিপ্লব বলেন, প্রাণসায়র রক্ষা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা। সাংবাদিক সমাজ এ বিষয়ে সোচ্চার থাকবে।
এছাড়া বক্তব্য দেন ইসিএ জেলা কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান, উন্নয়নকর্মী রেহেনা পারভিন, সাংবাদিক রায়হান পারভেজ, রুহিতোষ কুমার, যুব সংগঠক হৃদয় মন্ডল, উর্মি মীম, শেখ আব্দুর রহমান, নাজমুন নাহার, ইফতি জামিল ও ইমতি জামিল। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন।
কর্মসূচি থেকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রাণসায়র খালকে দখল ও দূষণমুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা একযোগে ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সময় থাকতে প্রাণসায়র খাল রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply