
সাতক্ষীরায় প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদরের বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক দায়িত্ব দখলের অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বর্তমানে নিজেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যালয়ের ভেতরেই তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। ওই ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ নভেম্বর সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে মামলায় উল্লেখ থাকা ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর মুজিদ জানান, রোববার (২১ ডিসেম্বর) মামলার পাঁচজন আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামায়াত নেতা মহাব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে কয়েকজন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দিচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান জানান, তিনি ২০০২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২০২২ সালে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা বিধি অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন শুধু বিদ্যালয়েই নয়, পরবর্তীতে তাঁর বাড়িতেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানান। এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply