
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ‘পরকিয়ার মিথ্যা অভিযোগ’ এনে ছকিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধুকে বৈদ্যুতিক পোলের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (১৩ মে) গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ মাধুকরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
থানায় দায়ের করা এজাহারে জানা গেছে, বাকপ্রতিবন্ধী স্বামীর সাথে ঢাকায় থাকতেন উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের রাখাল বুরুজ পচারিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের গৃহবধু ছকিনা বেগম। অসুস্থতার কারণে ৩ সপ্তাহ থেকে তারা গ্রামের বাড়িতে থাকছেন। পারিবারিক কারণে প্রতিপক্ষরা তাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১২ মে) রাতে ব্যস্ত থাকার সুযোগে কৌশলে একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দীনের ছেলে মোনারুল ইসলাম ঘরে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। এরপর ছকিনা বেগম ঘরে ঢুকলে মোনারুল তার কাপড় টানা হেচাড়া করে বিবস্ত্র করে এবং তার শ্লীলতাহানি ঘটায়।
এ সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষের লোকজন এগিয়ে এলে মোনারুল পালানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ছকিনা তাকে জাপটে ধরলে পরিকল্পনা অনুযায়ী মোনারুলকে ওই লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন পরপুরুষ ঘরে ঢোকানোর অপবাদ দিয়ে ছকিনাকে একটি বৈদ্যুতিক পোলের সাথে বেঁধে নির্যাতন করে আহত করে এবং তার মাথার চুল কেটে দেয়। থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। পরে এ ঘটনায় মোনারুলসহ ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে ওই গৃহবধু।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ মাধুকরকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। এ ব্যপারে থানায় একটি মামলা দয়ের হয়েছে। অভিযান চালিয়ে আলিমের স্ত্রী চামেলী বেগম (৪০), ছাত্তার আলী ও শাহজাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply