
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে , অ্যাম্বুলেন্স সংকটে রোগীর ভোগান্তি, চার বছর ধরে পড়ে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স।
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
১৩ আগস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভারত সরকারের উপহার দেওয়া একটি আধুনিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স প্রায় চার বছর ধরে পড়ে আছে। চালক ও জ্বালানি সংকটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় মূল্যবান এই যানটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ হাসপাতালটিতে অ্যাম্বুলেন্সের সংকট রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। পুরোনো এসব অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গুরুতর রোগীদের রংপুর বা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর সময় অ্যাম্বুলেন্স সংকটে পড়তে হয়। তখন দরিদ্র রোগীদেরও বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়।
হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভারত সরকারের উপহারের অ্যাম্বুলেন্সটি আধুনিক লাইফ সাপোর্ট সুবিধাসম্পন্ন। কিন্তু এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চালক না থাকায় কার্যত অকেজো হয়ে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সটির জন্য নিয়মিত চালকের পদ না থাকায় এবং অতিরিক্ত চালক না পাওয়ায় এটি চালানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বড় ও আধুনিক গাড়িটির জ্বালানি ব্যয় বহনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দও নেই।
যেখানে একটি সরকারি হাসপাতালেই রোগী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স নেই, সেখানে বিদেশি সরকারের উপহার দেওয়া আধুনিক একটি অ্যাম্বুলেন্স বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলাবাসীর অভিযোগ, বিদেশি সহযোগিতায় পাওয়া কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা যানবাহন অব্যবহৃত পড়ে থাকা জনগণের সম্পদের অপচয়। বিশেষ করে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যান দ্রুত সচল করা প্রয়োজন। চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থা করে এটি রোগী পরিবহনে যুক্ত করা হলে জেলার মানুষ উপকৃত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুড়িগ্রাম থেকে রংপুর ও ঢাকায় রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সংকট দীর্ঘদিনের। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেক রোগীর স্বজনকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। দরিদ্র পরিবারের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে জেলার কয়েকটি উপজেলা পর্যায়ে নতুন অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হলেও জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতাল কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে মানুষের মধ্যে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুরে নেওয়াজ বলেন, ‘ভারত সরকারের উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
জেলাবাসীর দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা ও বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা দূর করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা হোক। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চালক ও জ্বালানির বরাদ্দ নিশ্চিত করে এটিকে নিয়মিত জরুরি রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হলে সরকারি হাসপাতালের সেবার সক্ষমতা বাড়বে এবং কমবে রোগীদের দুর্ভোগ।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply