
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সততা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবহেলায় এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সততা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবহেলায় এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে পৌর শহরের পশ্চিম চারমাথা এলাকায় সততা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সমিরন বেগম জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।
জানা গেছে, সমরিন বেগম দুই মাসের গর্ভবতী ছিলেন। এর আগেও তার আট মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হলে তিনি সততা ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। শনিবার সকালে তিনি গর্ভকালীন সমস্যা নিয়ে সততা ক্লিনিকে ভর্তি হন। দুপুরের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বজনরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন রিলিজ দেওয়ার জন্য। কিন্তু তাকে রিলিজ না দেওয়ায় রোগীর স্বজনদের সাথে ক্লিনিকের স্টাফদের তর্কাতর্কি হয়। পরে বিকালে রোগীর অবস্থা আরও শোচনীয় হলে তারা রোগীকে রিলিজ দেয়। তখন তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় নেওয়ার পথে দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমিরনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর সেখানে গিয়ে মালিকপক্ষ, চিকিৎসক বা নার্স কাউকেই পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রোগীর সাথে চরম অবহেলা করা হয়েছে। সমিরনের শরীরে রক্ত দেওয়ার সময় যখন রক্ত যাচ্ছিলো না, তখন রিলিজ দিতে বললেও তারা রিলিজ দেয় না। উল্টো তারা আমাদের সাথে চিল্লাচিল্লি করে। সেই সময় বগুড়ায় নিতে পারলে হয়ত রোগীকে বাঁচাতে পারতাম। আর ক্লিনিকে কোনো ডাক্তার নাই। ক্লিনিক মালিক রেশমার পরামর্শে আয়া, নার্স ও স্টাফরাই সবকিছু করে।
এই মৃত্যুর ঘটনায় তারা সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে কর্মরত স্টাফ ও ক্লিনিক মালিকের শাস্তি দাবি করেন। সেই সাথে সততা ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের আহবান জানান৷
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply