1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রেমিকার কোটি টাকা আত্মসাত, সিলেটের পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীবাজী আর দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রেমিকার কোটি টাকা আত্মসাত, সিলেটের পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারীবাজী আর দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ

মোঃ আব্দুর রব : সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল উদ্দিন প্রিন্সকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, একাধিক নারীর করা মামলা, যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ, আদালতে বিচার কার্যক্রম এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সম্প্রতি ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন।

এর মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আজ ১ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

*যেভাবে শুরু পরিচয়*

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন সোহেল উদ্দিন। একই বিসিএসে উত্তীর্ণ হন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন নারী কর্মকর্তা (আদালতের নথিতে ছদ্মনাম ব্যবহৃত হয়েছে)।

বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারী কর্মকর্তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন সোহেল।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই নারীকে নিজের গ্রামের বাড়িতেও নিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্ক বজায় রাখেন।

*কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ*

মামলায় বলা হয়েছে, বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে প্রথমে দামি গৃহস্থালি সামগ্রী, পরে জমি কেনা, ফ্ল্যাট কেনা, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে প্লট কেনা, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল টাকা নেন।

মামলার বাদীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ, ব্যাংক লেনদেন, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী মিলিয়ে তিন কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ সোহেল উদ্দিন গ্রহণ করেন।

এর মধ্যে অন্তত ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর আরও দাবি, নিজের মায়ের ১৫৩ ভরি স্বর্ণ পর্যন্ত বিক্রি করে সেই অর্থও সোহেলকে দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে কী পাওয়া গেছে!

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পরে আদালতের নির্দেশে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুনঃতদন্ত করে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, উভয় সংস্থার তদন্তেই অভিযোগের বিভিন্ন দিকের সমর্থনে তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্ত চলাকালে বাদীর দেওয়া এসি, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, গিজারসহ বিভিন্ন সামগ্রী সোহেলের বাসা থেকে উদ্ধার করে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে আদালত সেসব মালামাল বাদীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।

*আদালতে বিচার শুরু*

দীর্ঘ তদন্তের পর আদালত সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযোগ গঠন করেন।

আসামিপক্ষ মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

ফলে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

*এখানেই শেষ নয়*

সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে শুধু এই মামলাই নয়, আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রিফাত জাহান স্নিগ্ধা নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, নির্যাতন, প্রতারণাসহ একাধিক মামলা করেছেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে আরও দাবি করা হয়েছে, চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি আদালতে বিচারাধীন।

*দুদকের নজরেও সম্পদ*

শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, সোহেল উদ্দিনের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, চাকরির প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই তার নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য সামনে আসে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তবে এখনো এ বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

*ছুটি নিয়ে আদালতে হাজির!*

আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাতে অস্ত্রোপচারের কথা বলে ছুটি নিলেও ওই সময় তিনি ঢাকায় আদালতে হাজিরা দেন।

এ বিষয়ে এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

*সোহেল উদ্দিন কী বলছেন?*

সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন সোহেল উদ্দিন।

তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার বাদীদের অভিযোগ সত্য নয় এবং আদালতেই তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করবেন।

এদিকে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা নারীরা বলছেন, তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :