
রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরশারিরিক শিক্ষা শিক্ষককে
নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ,সরেজমিন গিয়ে ভিন্ন চিত্র
এন এইচ রতন,বাগেরহাট
বাগেরহাট সদররে খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অ¯^াভাবিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে|বিষয়টি অনুসন্ধা সরেজমিনে গেলে পাওয়া গেছে সম্পীর্ন ভিন্ন তথ্য ও মতামত
সরে জমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে,একাধিক শিক্ষার্থী দাবি করেছে, ২০২১ সালে মাহমুদ স্যার নতুন যোগদানের পর একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে সমাধান হয়| এরপর এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি বলেও তারা উল্লেখ করে| শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে যে অভিযোগ গুলো প্রচারিত হচ্ছে সেগুলো সাম্প্রতিক নয় এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়| তারা আরও জানায়, স্যার আমাদের সন্তানসম দৃষ্টিতে দেখেন, তার আচরণে অসঙ্গত কিছু আমরা দেখিনি|তাছাড়া গত ৪/৫ মাস যাবৎ সারের কোন ক্লাস নেই|
তবে শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক তাদের কক্ষে ডেকে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্য লিখিত আকারে দিতে বলেন| তা না হলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করে তারা| এতে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে চাপে পড়ে ও হতাশাগ্রস্ত্য হয়ে পড়েছে|
এদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘পরিকল্পিত’ হতে পারে| তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই শিক্ষকের সঙ্গে কাজ করছেন এবং এমন আচরণের কোনো বাস্তব প্রমাণ তারা আগে দেখেননি| বরং অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফল হতে পারে বলে তারা মনে করেন|
কয়েকজন শিক্ষক আরও জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কিছু প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে| এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন|
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাইরের কোনো মহল থেকেও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না|
অভিযোগের বিষয়ে সরদার মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাকে নিয়ে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে| কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার মতবিরোধ হয়েছিল| আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন| কেউ এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না|” তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন|
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক দাস অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন আমাকে শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য নিতে বলেছে| আমার সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা নেই| আমরা চাই বিদ্যালয়ে ¯^াভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক|
প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় পূর্বে প্রকাশিত সংবাদের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়| সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন|#
বাগেরহাট|
০১-০৫-২০২৬
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply