
গাইবান্ধায় হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৪৮ ঘন্টায় ৩ জন এবং ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২ জনসহ মোট ৫ রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধায় হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৪৮ ঘন্টায় ৩ জন এবং ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২ জনসহ মোট ৫ রোগী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেউ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাননি।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ উর রহমান জানান, গাইবান্ধা জেলায় হাম উদ্বেগজনক নয়। দেশের অন্যন্য জেলার চেয়ে এ জেলায় হাম রোগের প্রকোপ অনেক কম। সেই সাথে এ রোগে এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনী।
এ সময় তিনি আরো বলেন, হাম রোগ হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যদিও হাম একটি সংক্রামক রোগ।
হামের প্রধান লক্ষণ হলো উচ্চ জ্বর, কাশি, সর্দি, লাল চোখ এবং মুখের ভেতরে কোপলিক দাগ দেখা দেওয়া; কয়েক দিনের মধ্যে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের ১০–১৪ দিন পর এসব লক্ষণ দেখা যায়।
হাম রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় টিকা না নেওয়া ছোট শিশু, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ। তবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও ঝুঁকি থাকে যদি তারা কখনও হাম টিকা না নিয়ে থাকেন।
হাম রোগী সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যথাযথ চিকিৎসা পেলে সাধারণত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। এ পাদুর্ভাব থেকে রক্ষায় সরকার টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে । পাশাপাশি হাম রোগ নিয়ে শিশুর অভিভাবক সহ সকল কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
এই দিকে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জনের তত্বাবধানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ(২০ এপ্রিল) সোমবার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে একযোগে এই টিকাদান কর্মসুচি বাস্তবায়ন হবে। যা চলবে ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত টানা তিন সপ্তাহ (সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যাতিত)।
জেলা জুড়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply