1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

সিলেটের জাফলংয়ে মাওলানা কুদ্দুস সিন্ডিকেটের রাজত্ব ভূমি দখল ও চাঁদাবাজিতে জিম্মি পর্যটন কেন্দ্র, সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ২৭ Time View

সিলেটের জাফলংয়ে মাওলানা কুদ্দুস সিন্ডিকেটের রাজত্ব
ভূমি দখল ও চাঁদাবাজিতে জিম্মি পর্যটন কেন্দ্র, সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

মোঃ আব্দুর রব : সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের জাফলং এখন এক বিশেষ অশুভ চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রের গুচ্ছগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় মাওলানা কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

সরকারি খাস জমি দখল, পরিবহন স্ট্যান্ডে বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং এসবের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

এই অশুভ তৎপরতায় ভূমি অফিসের অসাধু কর্মচারী ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী লাঠিয়াল বাহিনীর যোগসাজশ থাকায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাফলংয়ের নলজুরি মাদরাসার নাম ব্যবহার করে গুচ্ছগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন লেগুনা, সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে গাড়ি প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন মাওলানা কুদ্দুস।

অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসার দোহাই দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা হলেও তার কোনো অংশই মাদরাসার তহবিলে জমা হয় না; বরং সব টাকাই কুদ্দুস ও তার সহযোগীরা আত্মসাৎ করছেন।

এমনকি সিলেটের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নাম ভাঙিয়েও তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

সরকারি খাস খতিয়ানের ৫৬ দাগের মূল্যবান জমি একের পর এক গিলে খাচ্ছে কুদ্দুস বাহিনী।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী বদরুল ইসলাম শামীম।

স্থানীয়দের দাবি, বদরুলের সাথে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে সেখানে অবৈধভাবে দোকান কোঠা ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

জাফলং ভিউ হোটেলের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলামের নির্দেশ থাকলেও বদরুলের রহস্যজনক মধ্যস্থতায় তা থমকে যায়।

ইতোপূর্বে দুর্নীতির দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া বদরুল ‘উপর মহলের’ তদবিরে পুনরায় গোয়াইনঘাটে ফিরে এসে এই সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছেন।

মাওলানা কুদ্দুসের এই অপকর্মের প্রধান সহযোগী ও লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করছেন বহরা গ্রামের বিদেশ ফেরত রুকন খান।

নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে রুকন মাদক কারবার, চোরাচালান এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।

কুদ্দুসের দখলবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই রুকন ও তার বাহিনী সশস্ত্র হামলা, মামলা ও নির্যাতনের ভয় দেখায়।

এই চক্রের অপকর্ম নিয়ে সম্প্রতি ‘দৈনিক সবুজ সিলেট’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কুদ্দুস-রুকন বাহিনী।

প্রতিবেদক ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিচ্ছে রুকন খান। এমনকি চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে সাংবাদিককে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রও চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা কুদ্দুসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সুলেমান শাহ নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে জানান, কুদ্দুস গত কয়েকদিন ধরে খুব পেরেশানির মধ্যে আছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ভূমি কর্মচারী বদরুল ইসলাম শামীম নিজেকে পুরো ভূমি অফিসের দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেন।

তিনি মাওলানা কুদ্দুসকে চেনেন না বলে দাবি করলেও পরক্ষণেই বলেন, তিনি দেড় বছর ধরে গোয়াইনঘাট ভূমি অফিসে কাজ করেন।

দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) কোনো অভিযান চালায়নি বলে বদরুল দাবি করলেও অনুসন্ধানে গত বছরের এপ্রিল মাসে ওই অফিসে দুদকের অভিযানের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জাফলং বাজার পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হোসেন মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, মাওলানা কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভুয়া সভাপতি পরিচয় দিয়ে পর্যটন স্পটে প্রভাব বিস্তার করছেন।

হোসেন মিয়ার দাবি, মাওলানা কুদ্দুস সরকারি (এনিমি) জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।

হোসেন মিয়া আরও বলেন, সাবেক ইউএনও তৌহিদুল ইসলাম জাফলং ভিউ হোটেলের পাশের অবৈধ স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ দিলেও কুদ্দুস তা মানেননি।

এছাড়া তিনি মাদরাসার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন (সিএনজি, লেগুনা) থেকে টাকা তুলছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সিলেট জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। রুকন খান সংগঠনের কেউ নন।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাংবাদিককে হত্যার হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, সরকারি জমি দখল ও অবৈধ চাঁদাবাজির বিষয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাফলংয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান কামনা করছেন সচেতন মহল।

পর্যটন কেন্দ্রটিকে কুদ্দুস-বদরুল-রুকন সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করাই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :