
ফুলছড়ির ফজলুপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, আহত ৩
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাজে তেলকুপি গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এক সপ্তাহেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাদী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাজে তেলকুপি গ্রামের মৃত এনায়েত আলীর পুত্র মো. হারুন অর রশিদদের সঙ্গে একই এলাকার মৃত লাল মিয়ার পুত্র মোরশেদ, মিলন, মুনজিল, মনু ও সাদ্দামসহ তাদের সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মনোমালিন্য চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং, দুপুর আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে হারুন অর রশিদ তার বড় ভাই হাশেম, আব্দুল হামিদ ও রিপনকে নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ফজলুপুর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে দিতে একপর্যায়ে সন্ত্রাসী মোরশেদ, মিলন, মুনজিল, মুনু ও সাদ্দাম এবং তাদের সহযোগী ভাড়াটিয়া লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এতে হাশেম, আব্দুল হামিদ ও রিপন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আহতদের চিৎকারে স্থানীয় রেজাউল করিম, কফিল উদ্দিন, আশরাফুল ও রোকসানাসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়ার গাড়িতে করে কাবিলপুর ঘাটে নিয়ে যান। সেখান থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে কাটাদারা ঘাট হয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাশেমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এ ঘটনায় হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে মোরশেদসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০৬/১৪, তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
এ ছাড়াও আসামীদের নামে বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানাজায়।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে বাদী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply