
গাজীপুরে কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তেজনা
মোঃ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় প্রধান।
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ওয়াশিং কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় দু’দফায় এ সংঘর্ষে পুরো শিল্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকা ওয়াশিং প্ল্যান্ট-২’ নামের ওই কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কারখানাটির ড্রাই প্রসেস ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ ছিল যুবদল ও শ্রমিকদল নেতা মো. আবদুল কুদ্দুছ (৩৮) এবং মো. শাকিল আহমেদের (৩২) হাতে। তারা টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা মো. আকাশ, যিনি বিএনপি নেতা শাহনূর ইসলাম রনির অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত, বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রায় ২৫-৩০ জন সহযোগী নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ড্রাই প্রসেস ইউনিটের চলমান কার্যক্রম জোরপূর্বক বন্ধ করে দেন এবং শ্রমিকদের বের করে দেন।
এ ঘটনার পর কুদ্দুছ-শাকিল গ্রুপের সমর্থকরা শ্রমিকদের ফিরিয়ে এনে পুনরায় কাজ শুরু করলে বিকেল ৬টার দিকে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আকাশ গ্রুপ ফের কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের বের করে দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দুই গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি-সোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
ঘটনার পর কুদ্দুছ ও শাকিল টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তারা ছাত্রদল নেতা আকাশ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং কারখানার কার্যক্রমে বারবার বাধা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ এনেছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: শিল্প এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা
এদিকে বিসিক শিল্প এলাকার বেশ কয়েকজন কারখানা মালিক অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি এখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে টহল জোরদার
সংঘর্ষের পর থেকে পুরো বিসিক শিল্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply