
বর্তমান সময়ে যে অবস্থা তার জন্য গত ১৬ বছরের শাষণ আমল দায়ী।
কিন্তু এখন যদি নিজেদের থেকে দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন করতে না পারেন তাহলে এর থেকে খারাপ সময়ের জন্য জাতিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তখন কাকে দুষবেন।
এ দেশটা কারো বাপের রক্তে অর্জিত না, সে যেমন করে চাইবে তেমন করে হবে। ৭১ এর পর কিছু জাতীয় বেঈমান এ দেশটাকে নিয়ে বানিজ্য প্রতিষ্ঠান বানিয়ে চালিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র। সবাই নিজের স্বার্থটা প্রধান্য দিয়েছে। একাত্তরের পর যদি বাংলাদেশ টাকে নিয়ে সবাই উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করতো, তাহলে প্রতিটা আন্দোলনে মানুষকে জীবন দিতে হতো না। বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশে হাজারো মিরজাফের অভাব নেই, যারা নিজের স্বার্থে দেশের স্বার্থটা কে বিবেচনা না করে, কিছু চোর কিছু বাটপার দেশের বড় বড় পদে থেকে বিদেশে বসবাসের যোগ্য করে তুলেছে তারাই এ দেশটার প্রধান শত্রু।
বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে কাঠামো গুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল প্রকৃতপক্ষে সেই কাঠামো গুলো স্বাধীন হওয়ার পর একটু বাস্তবায়ীত তো হয়নি, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষ যাতে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে আইন তৈরি করা কিন্তু আফসোসের বিষয়ে দেশের জনগণের জন্যই আইন চালু করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা ব্যবহৃত হয় সাধারণ মানুষের জন্য যারা চোর ডাকাত বাটপার দেশের টাকা লুট করে তারা অগোোচরে রয়ে যায়।
দেশের মানুষ যাকে বিশ্বাস করে স্বাধীনতার ভার দিয়েছিল সে মানুষটি প্রথম বাংলাদেশের মানুষের জীবনের উপর প্রথম আঘাত হানে তা হল একনায়কতন্ত্র। যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছি ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। যার জন্য এদেশের মানুষের মায়া কান্নার কোন শেষ নেই, আসলে কি সেই দিনটা সম্পর্কে আমরা কাউকে শিক্ষা দিতে পেরেছি।
আমরা যাকে আজকে স্বাধীনতার মিত্র বলে পরিচয় দিয়ে থাকি আসলে তারা কি সত্যিকারেই বাংলাদেশের মিত্র হতে পেরেছে একটু ভেবে দেখে, বাংলাদেশের যতগুলো ট্রানজিট হয়েছে, তাতে ভারতে স্বার্থ ছাড়া কোন ট্রানজেস্ট এদেশে বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান একটি টাকা কড়িও নিতে পারেনি কিন্তু স্বাধীনতার পর মিত্র ভারত এদেশ থেকে যত ভালো ভালো যে জিনিস গুলো ছিল তা তারা ছিনেয়ে নিয়ে গেছে ওরা কি কখনো বাংলাদেশটির ভালো চেয়েছে আপনার কি মনে হয়?
এসব কথা বাদই দেন প্রতিদিন এই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কমবেশি লোক বিএসএফের গুলিতে নিহিত হয় আসলে তারা যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা কে বিশ্বাস করতো তাহলে তারা বাংলাদেশের মানুষের উপর গুলি চালাতে পারতো না ভারত শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ব্যবহার করছে। যখন বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান ছিল তখন ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে উঠে পড়ে লাগতে পারত না এই স্বার্থে তারা বাংলাদেশের মিত্র হলো প্রকৃতপক্ষে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় আমরা তাদেরকে যতটা অতিথি আপ্যায়ন করে থাকি। বাংলাদেশের মানুষ তাদের কাছে এতটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
ভারত শুধু বাংলাদেশ স্বাধীনতাকে ব্যবহার করছে তা থেকে যদি আমরা বের না হয় আসতে পারি তাহলে ২০২৪ এর মত আরো কিছু বছর বা সাল প্রতিনিয়ত আসতে থাকবে। তাই আমাদের ভারত দ্বি-মুখী আচরণের পক্ষে মত না দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে যতটুকু করণীয় আমরা ততটুকুই করতে হবে।
বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক পৃথিবীর রাষ্ট্রে বা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে এমন বিদ্যমান সম্পর্ক আর কোথাও নাই কারণ তারা এই দুষ্টু স্বার্থকে কেউ ব্যবহারের পক্ষে মদ দেয় না। কারণ রাষ্ট্র প্রধানের স্বার্থ জনগণের স্বার্থের মতবিভেদ তৈরি করে দেয়। এতে করে জনগণের স্বার্থ দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ দেশটা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত জাতীয় পার্টি, কোন দলের নয় এ দেশটা আপামর জনতা। তাই যদি কেউ এই আপমোর জনতার কে নিয়ে ভাবতে পারে তাহলে সেই সরকারকেই সমর্থন করা উচিত।
সে হিন্দু, সে মুসলমান না সে খ্রিস্টান তা নিয়ে ভাবার কোন কারণ নাই নিজ স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে জাতীয় স্বার্থ কে প্রাধান্য দেয়াই, একটি রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব।
যা বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রপ্রধান এখন পর্যন্ত এই নজির স্থাপন করতে পারেনি তার কারণেই আজ বাংলাদেশের মানুষের ভোগান্তি চরমপর্যায়ে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply