
স্বাক্ষর জাল করে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করার অভিযোগ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ।
মোঃ রিফাত আলী, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর ।
দেওয়ানগঞ্জের লংকার চর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল কাদের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ আহমেদ সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছে । এবং অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বরাবর প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি মাসের আগামী ৭ জুলাই । কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তিনমাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন ও অনুমোদনের প্রস্তাবনা পাঠানোর নিয়ম । সে সুবাদে গত ০৭ এপ্রিল থেকে সুপার মো. আব্দুল কাদের গোপনে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে । যা মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষক, দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অগোচরে । ১২ সদস্যের নতুন কমিটিটি গঠনের বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসার শিক্ষক ও বর্তমান কমিটির মাঝে সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয় ।
বর্তমান সভাপতি শেখ আহমেদ বলেন নতুন কমিটি গঠন করার জন্য খসড়া ভোটার তালিকা, ভোটার তালিকা অনুমোদন রেজুলেশন, দাতা সদস্য পরিবর্তন রেজুলেশন সহ বিভিন্ন কাগজে আমার স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিলো । নতুন কমিটি গঠনে আমি কোন স্বাক্ষর করিনি । আমার সমস্ত স্বাক্ষর জাল করেছে সুপার কাদের । আমি সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনে সুপারকে দুর্নীতি করতে দেয়নি । তাই সে গোপনে এবার মনগড়া কমিটি গঠন করেছে এবং অনুমোদনের জন্য বোর্ডে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে । স্বাক্ষর জাল করার ব্যাপারে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি তিনি কোন জবাব দেয়নি । কমিটিটি বাতিলের জন্য বোর্ডের রেজিষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি । বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কেও জানানো হয়েছে ।
সভাপতি শেখ আহমেদের পরামর্শে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে কথা বললে শিক্ষিকা মোছা. আতোয়ারা বেগম জানায়, আমার স্বাক্ষর ছাড়াই আমাকে সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনীত করেছেন সুপার। শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক ও মো. ফজলুল করিমের ভাষ্য, আমাদের মনোনয়ন ফরম নাকি স্থানীয় মতি মেম্বার, আব্দুস সামাদ , আলামিন সহ আরো কয়েকজন সুপারের কাছ থেকে ছিনতাই করে নিয়েছে । ছিনতাইয়ের ঘটনায় সুপার কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করেনি । তাই আমরা কমিটিতে থাকতে পারিনি । আরো বলেন মো. সাব্বির আহমেদ যিনি মনোনয়ন ফরম না কিনেই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে কমিটিতে আছেন ।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফা আখতার বলেন নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে প্রিজাইডিং নিয়োগ দিলে আমি সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি । সুপার রেজিষ্টার বরাবর আবেদন করেছে । সভাপতি বা কারো স্বাক্ষর জাল কি না এ ব্যাপারে আমি অবগত নই ।
সুপার মো. আব্দুল কাদের দৈনিক সংবাদকে মুঠোফেনে বলেন, কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তিন মাস আগে থেকেই কমিটি গঠন করতে হয় । নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপার উপজেলা চেয়ারম্যান জানেন । কোন স্বাক্ষর জাল করা হয়নি । পরে কথা বলবেন বলে ফোন কল কেটে দেন ।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply