
পার্কের বেঞ্চিতে আমি খুব একটা বসিনা। নিজেকে বেকার যুবক মনে হয়। মধ্যবিত্ত বেকার। স্বপ্ন ধরতেও জানেনা। ছাড়তেও পারেনা। বড় বড় ঘাসওয়ালা ঠান্ডা মাটিতে বসে আমি মাছি ধরার মতো স্বপ্ন ধরি। বিহঙ্গের মতো বিশাল ডানাওয়ালা স্বপ্ন। বটের ঝুড়ির মতো লতানো লম্বা স্বপ্ন। জেগে জেগে দেখা প্রকান্ড স্বপ্ন।
আমি যখন নিজের সাথে আবোলতাবোল বকছি তখন জমিলা আমার থেকে একটু দূরে পা গুটিয়ে বসেছে। জমিলার ছোট নাম জামি। ওর চোখে চোখ পড়লেই চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। ভাবটা এমন, আমি আমার মতো বসে আছি, তুমি তোমার মতো থাকো। ওর অস্বস্তি হচ্ছে ভেবে আমি উঠে পড়লাম। জামিও পেছন পেছনে আগের মতই খানিক্টা দূরত্ব রেখে পাশেপাশে হাঁটতে লাগলো।
আমি দেখলাম আমি আসলে এখানে এই বনারণ্যে বসে নেই। চারদেয়ালের ভেতরে আকাশ দেখার সূত্র মেনে নিয়ে স্বপ্নের সাথে আপোষ করছি। বাঙালি মধ্যবিত্তের বেশকিছু স্বভাব কাটিয়ে উঠতে পারলেও সময় জানান দেয় আমার রক্তেও ওই একই তরল।
আকাশও থমথমে মুখ নিয়ে আমাকে দেখে নিলো। আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ বলেছে খিঁচুড়ি রাঁধতে। এদিকে আমার বড্ড ঘুম পাচ্ছে। জামিকে বলেছি পেছন পেছন আসিস না। পরে পথ ভুলে যাবি। ও লেজ দুলিয়ে জানান দিলো, ভয় নেই। তোমায় রিক্সায় উঠিয়ে দিয়েই ফিরে আসব নিজের ডেরায়।
এক মধ্যবিত্ত বেকার যুবকের পোড় খাওয়া মন নিয়ে পার্কের দরজায় পা বাড়ালাম। সন্ধ্যার ঘরমুখী মানুষের মতো পা আর চলতে চায়না। যাবার বেলা একটা স্বপ্ন ইচ্ছে করেই ফেলে গেলাম এখানে। কেউ কুড়িয়ে পেয়ে তুলে দিক প্রিয় কারো চোখে। ওদের চোখের আরাম হোক। কিছু স্বপ্নে অন্যের শুশ্রুষা হোক।।
২৪/০৬/২০২৪
Tasnuva Mohona
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply