
সুস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনায় তারুণ্যের দীপ্ত শপথ: মিঠাপুকুরে জনসংখ্যা দিবস
সাজেদুর রহমান রংপুর প্রতিনিধি
তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয় গড়ি সুন্দর ভবিষ্যৎ”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরের মিঠাপুকুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় (১২ই জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে।দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
ডা.মায়িশা ফাহমিদা মেডিকেল অফিসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ পারভেজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ এনামুল হক ও মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোঃ মীর হোসেনসহ এত কমপ্লেক্সের কর্মচারী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, অধিক জনসংখ্যাকে বোঝা না ভেবে পরিকল্পিত পরিবার গঠন ও তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে । শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুবসমাজকে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা মাঠপর্যায়ের কর্মী ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। টেকসই উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১১ জুলাই এই দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে:“তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের তথ্যমতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান অত্যন্ত জরুরি। বাল্যবিবাহ, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব এবং অপুষ্টি এখনো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যুবসমাজের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
১৯৯০ সালের ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো ৯০টি দেশে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গভর্নিং কাউন্সিল ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply