
“নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে দিলেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নওগাঁ ৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। তাঁকে পেয়ে কৃষকরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন'”
মহাদেবপুর থেকে (ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি) মোঃ আকতার হোসেন।
১৬ মে ২৬ শনিবার দুপুরে নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের গোপালতলা মোড় এলাকার আলম হোসেনের দেড় বিঘা জমির পাকা ধান কেটে দেন তিনি। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই ধান কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
কৃষক আলম হোসেন বলেন, গত ৮ থেকে ১০ দিন ধরে শ্রমিক না পেয়ে জমি থেকে ধান কাটতে পারছিলাম না। ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। হঠাৎ এমপি সাহেব নেতা কর্মীদের নিয়ে আমার ধান কেটে দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এ জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বলেন, ‘মহাদেবপুর ও বদলগাছী ২ উপজেলায় শ্রমিক দলের উদ্যোগে ধান কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে বিধবা, এতিম ও অসচ্ছল কৃষক, যারা শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতা কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব কৃষক শ্রমিক সংকট বা আর্থিক সমস্যার কারণে ধান কাটতে পারছেন না, তাদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা কাজ করবে। কৃষকরা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কৃষক যাতে তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, সে জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে কৃষকরা লাভবান হবে।
এদিকে জমিতে কাস্তে হাতে সংসদ সদস্য নিজেই ধান কাটতে নামলে সাধারণ মানুষ তা দেখতে ভিড় করেন। এসময় কেউ মোবাইলে ভিডিও করেন, কেউ ছবি তোলেন আবার কেউ বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে দেখেন। সংসদ সদস্যের জমিতে নেমে সরাসরি ধান কাটায় স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক উজ্জল হোসেন বলেন, সাধারণত নেতাদের আমরা শুধু মঞ্চে দেখি। কিন্তু আজ একজন সংসদ সদস্যকে মাঠে নেমে কৃষকের সঙ্গে ধান কাটতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। একজন সংসদ সদস্য মাঠে নেমে ধান কাটছেন এটা আগে দেখিনি।
আরেক বাসিন্দা বিশু বলেন, কৃষকের কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়ানোটা অনেক বড় বিষয়। শুধু বক্তব্য দিলে মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু মাঠে নেমে কাজ করলে সেটা মানুষের মনে থাকে। কৃষকরাও মানসিকভাবে সাহস পাবেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply