
চিকিৎসার আড়ালে কিশোরীকে হয়রানি, আটক চিকিৎসক
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকী বাজারে এক দন্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসার আড়ালে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৌতম মন্ডল (৪২) নামে ওই দন্ত চিকিৎসককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুর ১টার দিকে নওয়াবেঁকী বাজারে গৌতম মন্ডলের ব্যক্তিগত দন্ত চিকিৎসালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত গৌতম মন্ডল শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাটি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে ওই কিশোরী তার বাবার সঙ্গে চিকিৎসার জন্য গৌতম মন্ডলের চেম্বারে আসে। প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক কৌশলে কিশোরীর বাবাকে চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর ভেতরে একান্তে চিকিৎসার নামে কিশোরীর সঙ্গে অসঙ্গত আচরণ ও যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হঠাৎ কিশোরীর চিৎকার শুনে তার বাবা ও আশপাশের দোকানদাররা দ্রুত চেম্বারের ভেতরে ছুটে যান। সেখানে পরিস্থিতি দেখে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নওয়াবেঁকী বাজার কমিটির সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান (মনি), ১০নং আটুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আবুজার গিফারি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। তারা জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে বাজার কমিটির কার্যালয়ে নিয়ে যান।
এদিকে ঘটনাক্রমে ওই সময় বাজারে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর থানার ডিএসবি কর্মকর্তা সুমন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত গৌতম মন্ডল নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরে শ্যামনগর থানার এসআই সজিবের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা শিশু ও নারী রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply