1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জে পিআইও অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য, ছায়া কর্মচারীর দৌরাত্ম্য

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ২৯ Time View

কালীগঞ্জে পিআইও অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য, ছায়া কর্মচারীর দৌরাত্ম্য

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসকে কেন্দ্র করে ঘুষ আদায়, অনিয়ম ও প্রকল্প তদারকিতে বহিরাগত লোক নিয়োগের অভিযোগে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পিআইও মফিজুর রহমানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে স্বপন কুমার মন্ডল নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।
স্বপন কুমার মন্ডল ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামের বাসিন্দা এবং ২০১২ সালে উকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দেখিয়ে বেতন তুলছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল কবির জানান, তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কোনো ফল হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপন সরকারি কর্মচারী না হয়েও পিআইও অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করেন, প্রকল্প তদারকি করেন এবং ঘুষ আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ছুটির দিনেও তাকে অফিসে কাজ করতে দেখা গেছে। পিআইও মফিজুর রহমান ছুটিতে থাকলেও স্বপনের মাধ্যমে অফিস পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে স্বপন ‘ছায়া পিআইও’ হিসেবে কাজ করছেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে তার সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে পার্সেন্টেজ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের চিত্রও সামনে এসেছে। খড়িতলা-খুবদিপুর সড়কে ৩০ লাখ টাকার একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে টেংরাখালি খাল খনন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকল্পে প্রকৃত ঠিকাদারের পরিবর্তে ভুয়া নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া পিআইও মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিটি প্রকল্প থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থের একটি অংশ অফিস ও সাংবাদিকদের নামেও নেওয়া হয়, যার ফলে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মফিজুর রহমান তার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে বরগুনার আমতলীতে কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে, আরশাদ নামে আরেক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল চালক ও বডিগার্ড হিসেবে ব্যবহার করে প্রকল্প তদারকির নামে ঘুষ আদায়ের কাজে নিয়োজিত রাখার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অফিসে অনুমোদন ছাড়া এভাবে লোক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে।
এ বিষয়ে পিআইও মফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রকল্পের তথ্য ও বরাদ্দ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। অপরদিকে, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুরো ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনগণ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :