
🔴 গাইবান্ধায় গনউন্নয়ন কেন্দ্র এনজিওতে ভয়াবহ অনিয়ম ও যৌন হয়রানির অভিযোগ
টাকা, বেতন ও সনদ আটকে রাখা—চাকরির নামে ব্ল্যাংক চেক জিম্মি
গাইবান্ধা জেলায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা—গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)–এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম, আর্থিক প্রতারণা ও নারী কর্মীদের যৌন হয়রানির একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সালাম মিয়া ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সাবেক ও বর্তমান কর্মী।
🔻 পিএফ প্রোজেক্ট এর বেতন ও সনদ আটকে রাখার অভিযোগ
একজন সাবেক কর্মী অভিযোগ করে জানান, তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে পদত্যাগ করলেও এখনো তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা, বকেয়া বেতন ও চাকরির সনদ বুঝে পাননি। তার নির্ধারিত মাসিক বেতন ছিল ২২ হাজার ৫০০ টাকা, কিন্তু নিয়মিতভাবে তাকে ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকা দেওয়া হতো।
অভিযোগকারী জানান, চাকরি ছাড়ার পর একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
🔻 চাকরির নামে ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাকরিতে যোগদানের সময় এনজিও কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাছ থেকে স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ করত। চাকরি শেষ হওয়ার পরও সেই চেক ফেরত দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি চেক ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়—
“চেক নাকি নষ্ট হয়ে গেছে বা পোকায় খেয়েছে।”
এই বক্তব্যকে তিনি অত্যন্ত সন্দেহজনক ও ভয়ংকর বলে দাবি করেন।
🔻 নারী প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ
আরও ভয়াবহ অভিযোগ উঠে এসেছে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে। সাবেক ওই কর্মীর ভাষ্যমতে, প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী প্রশিক্ষণার্থীরা গনউন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান কার্যালয়ের আবাসিকে অবস্থানকালে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাতে ডেকে নেন তাদের গোপন কক্ষে।
অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—আফতাব, রতন, মুরাদ ও মিজানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
অভিযোগকারী জানান, তিনি নিজে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং একাধিক নারী প্রশিক্ষণার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব ঘটনার কথা তাকে জানিয়েছেন।
🔻 ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ
চাকরি ছাড়ার পর অভিযোগকারী বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলে উল্টো তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ। তাকে বলা হয়—
“প্রয়োজনে আপনার বিরুদ্ধে তথ্য ব্যবহার করা হবে।”
এই হুমকির কারণে দীর্ঘদিন তিনি মুখ খুলতে পারেননি বলে জানান।
⚖️ আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মত
মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা—
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর বিধিমালা
এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে চাকরির শর্ত হিসেবে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ ফৌজদারি অপরাধের উপাদান বহন করে বলে মত দেন তারা।
🕵️♂️ প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কার্যকর তদারকি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, এই নীরবতা এনজিও খাতে অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
🔻 কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সালাম মিয়া ও অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
🛑 তদন্ত ও শাস্তির দাবি
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দাবি জানিয়েছেন—
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত
ব্ল্যাংক চেক গ্রহণকারী এনজিওগুলোর নিবন্ধন পুনর্বিবেচনা
দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
চাকরি শেষে কর্মীদের সব আর্থিক পাওনা ও কাগজপত্র তাৎক্ষণিক ফেরত।
উন্নয়নের নামে যদি কর্মীদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করার সংস্কৃতি চালু থাকে, তবে সেই উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ। এনজিও খাতের স্বচ্ছতা ও কর্মীদের অধিকার রক্ষায় এখনই কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply