1. admin@durnitirtalashteam.com : durnitirtalashteam :
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
October 10, 2026, 10:17 pm

সাদুল্লাপুরে বন্ধ ইটভাটায় নকল সারকীটনাশক তৈরির কারখানা, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ২

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, October 10, 2026
  • 17 Time View

সাদুল্লাপুরে বন্ধ ইটভাটায় নকল সারকীটনাশক তৈরির কারখানা, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ২

 

রানা ইস্কান্দার রহমান।

 

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বন্ধ থাকা একটি ইটভাটায় অনুমোদনহীনভাবে নকল সার, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক  তৈরির  অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ছয় মাস ধরে সেখানে এসব কৃষি উপকরণ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে  জানা যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও থানা,ফাড়ি পুলিশের যৌথ অভিযানে কারখানাটি থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য  সার, নকল বালাই ছত্রাক নাশক, রং ক্যামিক্যাল,ইটের রাবিশ,কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক কর্মচারী সহ ২ জনকে আটক করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে কালসারডারা বাজারসংলগ্ন ফারুকের বন্ধ ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভাড়া নেওয়া ইটভাটায় কারখানা

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মোকলেছুর রহমানের ছেলে মাইদুল ইসলাম বাবু ওই বন্ধ ইটভাটাটি ভাড়া নিয়ে কারখানা স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিশেষ করে ফসফেট পটাশ  সার, কীটনাশক,বালাইনাশক  ও ছত্রাকনাশকের নামে নকল পণ্য তৈরি এবং প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব পন্য বাবু নিজের দোকান ছাড়াও কালসারডারা বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানায় ম্যানকোজেব, কার্বেনডাজিম ও কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক, গ্লাইফোসেট বা প্যারাকুয়াট গ্রুপের আগাছানাশক এবং ক্লোরপাইরিফস, ইমিডাক্লোপ্রিড ও সাইপারমেথ্রিন,

গ্রুপের বালাইনাশকের প্যাকেট সহ ৩ জিআর প্যাকেট পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপের  পণ্য ‘ফেমাস এগ্রো লিমিটেড’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে প্যাকেট দেখে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মাইদুল ইসলাম  বাবু  রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলার কালসারডারা সংলগ্ন

জায়গায় একটি চাতালে  বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গো-খাদ্যে গমের ভুসির সঙ্গে ধানের ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে ‘বসুন্ধরা’ ও ‘মণ্ডল’সহ বিভিন্ন  ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করে আসছে।এসব পন্য নিরাপদে রাখতে সে পীরগঞ্জ উপজেলার  বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন  জায়গায় গোডাউন ভাড়া করে রেখেছে বলে জানায় স্হানীয়রা।

জব্দ  করা পন্য গুলোর মধ্যে রয়েছে,  কাঠের গুঁড়া, ইটের গুঁড়া, রাসায়নিক উপকরণ, চক পাউডার, রং, মোটা বালু, ফসফেট, পটাশ, সাদৃশ্য সার ফুরাডান, রং খালি প্যাকেট, পণ্য তৈরির যন্ত্রপাতি এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র, বই,লোগো ইত্যাদি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত দিন তাঁদের ধারণা ছিল, সেখানে কোঁচো  জৈব সার তৈরির কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণে কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের তেমন সন্দেহ হয়নি। তবে প্রশাসনের অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের নকল সাদৃশ্য   সার, বালাইনাশক  কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তৈরির সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তাঁরা বিস্মিত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকেরা ফসলের উৎপাদন বাড়ানো এবং রোগবালাই দমনের আশায় সার ও কীটনাশক কিনে জমিতে ব্যবহার করেন। এসব পণ্যের নামে নকল বা নিম্নমানের উপকরণ বাজারজাত করা হলে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি ফসলের উৎপাদন, গুণগত মান ও নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁরা বলেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকেরা এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। এর মধ্যে নকল কৃষি উপকরণ বাজারজাত করা হলে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

তাদের ধারনা শীত কালিন সবজিতে কৃষক ফসফেট, পটাশ, জিংক, ভিটামিন,বালাই,ছত্রাক নাশক ব্যবহার করে এই সূযোগ কাজে লাগাইতে চাইছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং জব্দ করা পণ্যের পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা হবে।তাই নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওজাতুন জান্নাত জানান, জব্দ করা পণ্য ও উপকরণের প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অভিযানে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের এনডিসি, জেলা কৃষি অফিসের প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং থানা ও পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা অংশ নেন।

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক কর্মচারীসহ দুজনকে  আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান হাবিব ও ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি,  রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান দেখতে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাবু পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষি উপকরণ উৎপাদন,  বাজারজাতের ক্ষেত্রে বৈধ অনুমোদন, পণ্যের গুণগত মান, বাজার তদারকি নিশ্চিত, রাসায়নিক উপকরণ, পরীক্ষাগারভিত্তিক যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে মানসম্মত সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করা কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি