
চীনা নাগরিককে বিয়ে, ভিসা জটিলতায় ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার এক তরুণী ও চীনের এক নাগরিক। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চীনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও ভিসা ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত যাত্রা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে চীনা স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন ওই তরুণী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মেরিনা রিফা পারভীনের এর আগে একই উপজেলার নেংগী গ্রামের আলিফ কবির নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নথিতে আলিফ কবিরের পিতা হিসেবে শাহাজান কবির এবং মাতা হিসেবে আছমা জান্নানের নাম উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রথম সংসারে দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তালাক-সংক্রান্ত নথিতে মেরিনা রিফা পারভীনের পক্ষ থেকে দাম্পত্য বিরোধ ও অশান্তি, স্বামীর নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া, স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়া এবং স্বামীর অন্য স্ত্রী থাকার অভিযোগসহ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ থাকলেও এর সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রথম সংসারের বিচ্ছেদের পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চীনা নাগরিক মাহাবিব (马哈比卜)-এর সঙ্গে মেরিনা রিফা পারভীনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিয়ে করেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, চীনা নাগরিক মাহাবিবের জন্ম ১৬ মার্চ ১৯৯৫। তার ঠিকানা চীনের গানসু প্রদেশের দোংশিয়াং স্বায়ত্তশাসিত জেলার বাইহে টাউনশিপ এলাকার লিয়াওঝাইয়া গ্রাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। নথিতে তার চীনা নাগরিক পরিচয়পত্রের মেয়াদ ২৩ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ২৩ অক্টোবর ২০৪৫ সাল পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের পর মেরিনা রিফা পারভীনের চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষ্যে তিনি বিদেশ যাত্রার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু করেন। তবে ভিসা ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে তার চীনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যাত্রার সময় ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়ে তাকে ফেরত আসতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে চীনা নাগরিক স্বামী মাহাবিবকে সঙ্গে নিয়ে মেরিনা রিফা পারভীন কালিগঞ্জের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে এবং পরবর্তীতে চীনে যাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, মেরিনা রিফা পারভীনের প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত নথিতে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অর্ডিন্যান্সের ৭ ও ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তালাকের নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তালাক নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছে আবেদন করার কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক, পরবর্তীতে বিয়ে এবং চীনে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন জটিলতায় যাত্রা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
তবে চীনা নাগরিক মাহাবিব ও মেরিনা রিফা পারভীনের বিয়ের আইনগত নিবন্ধন, চীনে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত দেওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
Leave a Reply