
গাইবান্ধায় ৫’শ কোটি টাকা মুল্যের পরিত্যক্ত জমিতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি স্থাপনের উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের উদাসীনতায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম!
মোনায়েম মন্ডলঃ গাইবান্ধা শহরে ৫’শ কোটি টাকা মুল্যের পরিত্যক্ত মালিক বিহীন জমি উদ্ধার পূর্বক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (জামিয়া) সহ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য উক্ত জমি বরাদ্দ দানের জন্য ১৬ এপ্রিল’২০২৬ ইং গাইবান্ধা ইমাম-ওলামা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হাতে সরাসরি জমির তথ্য সম্বলিত পেপার কাটিং, জমির বালাম ও দলিল নাম্বার এবং জমির দাগ নাম্বার সম্বলিত দুই পাতা বিশিষ্ট তফশীল জমির তালিকা প্রদান করেন। একই সাথে তারা এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পক্ষে রেজিঃ ডাকযোগে অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, গাইবান্ধা-২ সদরের সংসদ সদস্য, ঢাকাস্থ বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব বরাবর প্রেরণ করেন।’
ইমাম ওলামা পরিষদ গাইবান্ধার সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান কাশেমী জানান, ইমাম ওলামা পরিষদ গাইবান্ধার নেতৃবৃন্দ সহ গাইবান্ধা শহরের আদর্শপাড়া এলাকার কয়েকশত মুসুল্লি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ঈদগাহ মাঠ সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গণ পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এই গণ পিটিশন আমরা ইমাম ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ১৬ এপ্রিল তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেই। জেলা প্রশাসক মহোদয় আন্তরিকতার সাথে আমাদের এই আবেদন পত্র (গণ পিটিশন) গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন- ইসলামিক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তিনি আরো বলেন, আমি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কিন্তু গাইবান্ধা রাজস্ব শাখার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোঃ আশরাফুল হক কর্তৃক গত ৪ আগষ্ট’২০২৬ তারিখে স্বারক নং ৩৯১/১ পত্র মতে জানা যায়, আবেদনে জমির সুস্পষ্ট তফশিল উল্লেখ করা হয়নি! এ ব্যাপারে আবেদনকারী ইমাম ওলামা পরিষদ গাইবান্ধার সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান কাশেমী আরো জানান, আবেদন পত্রের সাথে জমির তফশিল সংযুক্ত না করলেও ডিসি মহোদয়ের হাতে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংবলিত পেপার কাটিং ও জমির তফশিল সম্বলিত দুই পাতার একটি জমির তফশিল তালিকা জমা দেয়া হয়েছে! কিন্তু রহস্যজনক কারণে সরাসরি হাতে দেয়া উল্লেখিত প্রমাণপত্র গুলো না দেখেই স্বারক নং ৩৯১/১ তারিখ- ৪/৫/২০২৬ তারিখে একটি দায়সারা গোছের পত্র প্রেরণ করেন।
উল্লেখ্য- গাইবান্ধা সদর থানার অন্তর্গত জে,এল নং ৯৯ এর অধীনে গোবিন্দপুর মৌজাস্থ হলদিয়ার বিল নামক স্থানে মালিক বিহীন ৬০ বিঘা জমির মধ্যে হতে ২০ বিঘা ফাঁকা জমি প্রশাসনিক উদ্যোগে উদ্ধার করে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য গাইবান্ধা ইমাম-ওলামা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের জন্য আবেদন করেন।
আরো উল্লেখ্য যে, গত ১০/৩/২০২৬ ইং তারিখে নিউজ ৯৯ সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার লিংক-99news.net এই বিষয়টি ইমাম ওলামা পরিষদের নজরে আসে। তারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উক্ত মালিক বিহীন ৬০ বিঘা জমির মধ্যে থেকে ২০ বিঘা ফাঁকা জমি উদ্ধার করে বরাদ্দ প্রদানের আবেদন করেন।
সুত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলা শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ৬০ বিঘা মালিক বিহীন পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। যার বর্তমান মূল্য কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকা। বিষয়টি ২০০৯ সাল থেকে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েক দফা বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্রিকা কাটিংসহ ফাইলপত্র তৎকালীন গাইবান্ধা সদরের এসি(ল্যান্ড) অফিসে প্রেরণ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিস দীর্ঘ ১৭ বছরেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যা বর্তমানেও অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর আশংকা দেখা দিয়েছে!
সুত্র আরো জানায়, মৃত. বাসত উল্লাহ নামের জনৈক ব্যক্তির পুত্র সোলায়মান আলী তার পরিবার পরিজন নিয়ে ১৯৭০ সালে ভারত থেকে ছেড়ে এসে গাইবান্ধা শহরের আদর্শপাড়া (গোবিন্দপুর মৌজায়) এলাকায় বসতি স্থাপন করে। এ সময় একই এলাকার বিধু ভূষন দাস, যতিন্দ্র চন্দ্র দাসসহ ৫/৬টি পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার আগে উল্লেখিত সোলায়মান আলীর কাছে তাদের সমস্ত সম্পত্তি কবলা দলিল মূলে বিক্রি করে দেয়। সোলায়মান আলী এই ৫/৬টি পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে ও তার ৭ পুত্র হোসেন আলী, আব্দুস সামাদ, আব্দুল লতিফ, জয়নাল আবেদীন, ইব্রাহিম আলী, ইসমাইল হোসেন ও আবু বক্করের নামে কবলা দলিল করে নেয়। উল্লেখিত জমি গুলোর মৌজা গোবিন্দপুর, জে.এল নং- ১৯। জমির পরিমান ১৯ একর ৪৪ শতাংশ। ১৯৭০ইং সালের ১২ নভেম্বর, ১৯৭১ইং সালের ৭ জানুয়ারী ও ১৪ জানুয়ারী এই ৩টি তারিখে জমিগুলোর কবলা দলিল হয়। এর মধ্যে ভলিয়ম বা বালাম নং ১০৫ বইয়ে আছে ১১৪৭০নং, ১১৪৭১নং দলিল, ভলিয়ম বা বালাম নং ১১১ বইয়ে আছে ১১৪৭২নং, ১১৪৭৩নং ও ১১৪৭৪ নং দলিল, ভলিয়ম বা বালাম নং ১২ বইয়ে আছে ২৭৬নং, ৩২৪নং,৩২৫নং ও ৩৭৫নং দলিল এবং ভলিয়ম বা বালাম নং ০৭ বইয়ে আছে ২৭৬নং, ২৭৭নং, ২৭৮নং ও ৩২৬নং দলিল।
এদিকে, ১৯৭১ইং সালে মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হলে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু পরিবারের উল্লেখিত ৫/৬টি পরিবারের লোকজন দেশে ফিরে এসে সোলায়মান আলী ও তার পরিবারের ওপর অন্যায় অত্যাচার করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে জমিগুলো জোরপূর্বক দখল করে নেয়। ফলে সোলায়মান আলী ও তার পুত্রদের নামে ক্রয় করা জমিগুলো বিক্রি না করে বা তাদেরকে দলিল মুলে ফেরত না দিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে পুনরায় তারা ভারতে চলে যায়।
অপরদিকে, বিষয়টি ২০০৯ইং সালের জানুয়ারী মাসে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। জেলা প্রশাসন অফিস থেকে পেপার কাটিংসহ বিভিন্ন ফাইলপত্র তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দাখিল করার জন্য গাইবান্ধা সদরের এসি ল্যান্ড অফিসে প্রেরণ করেন। তৎকালীন এসি ল্যান্ড ছিলেন লুবনা সিদ্দিকী। তার নির্দেশেই তৎকালীন কানুনগো গোলাম হাবিবের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার আঃ আউয়াল, তৎকালীন থানসিংহ পুর ভুমি অফিসের তহশীলদার মাহমুদুল হাসান, এমএলএসএস আঃ সোবহানসহ ৪ সদস্যের তদন্ত দল স্থানীয় অসংখ্য গন্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্ত করেন। তারা দলিলপত্র গুলো জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসের রেকর্ডরুম থেকে যাচাই-বাছাই করে সুনির্দিষ্ট প্রমানপত্র সংগ্রহ করেন। তারপর থেকে রহস্যজনক কারণে ফাইলটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
মোনায়েম হোসেন মন্ডল
সিনিয়র সহ-সভাপতি
কেন্দ্রীয় কমিটি
বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি
ঢাকা, বাংলাদেশ।
তারিখঃ ১২.০৭.২০২৬ ইং
মোবাইলঃ 01718540486
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply