
শিশুদের বাঁচাতে হবে — আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ
দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিশুদের হাত ধরে। অথচ আজ বাংলাদেশের হাজারো শিশু দারিদ্র্য, অপুষ্টি, অবহেলা, মাদক, অপরাধ ও মানবপাচারের ভয়াল ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, অনেকের নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই চিকিৎসা কিংবা সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ। এই বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অসংখ্য শিশু প্রতিদিন সংগ্রাম করছে বেঁচে থাকার জন্য। কেউ ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করছে, কেউ আবার অল্প বয়সেই শ্রমে ঝুঁকে পড়ছে। অনেক শিশু মাদকাসক্ত চক্র, অপরাধী গোষ্ঠী কিংবা দালালদের খপ্পরে পড়ে অন্ধকার জীবনের দিকে চলে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে শিশু পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলার শিশু ট্রাস্টের সভাপতি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সহধর্মিণী সোনিয়া হোসেন।
তিনি বলেন,
“শিশুদের বাঁচাতে হবে। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। অসহায় ও পথশিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ভালোবাসা দিতে না পারলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনতে হবে। অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশু পাচার বন্ধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি এবং শিশু বিক্রির মতো অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
অসহায় শিশুদের জন্য সরকারিভাবে আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ
বিনামূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শিশু নিরাপত্তা জোরদার
মাদকাসক্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
শিশু পাচার প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি
সমাজে শিশু অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি
বিত্তবানদের অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
এতিম ও অসহায় শিশুদের সাথে পরিবারভিত্তিক মানবিক সময় কাটানোর উদ্যোগ
শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি
“শিশু আনন্দ দিবস” আয়োজনের মাধ্যমে শিশুদের আনন্দ ও ভালোবাসা দেওয়ার উদ্যোগ
সমাজ সচেতন মহল মনে করছে, শিশুদের রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো জাতির নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি ফুটলে তবেই একটি মানবিক, উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আজ প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, মানবিকতা এবং সচেতনতা। কারণ শিশুদের বাঁচাতে পারলেই বাঁচবে দেশের ভবিষ্যৎ।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply