
ঘর থেকে প্রভা দাসের ঝুলন্ত ম*র*দে*হ উদ্ধার
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভা দাস নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-ইচ্ছুক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং মানবাধিকার কর্মীরা।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত প্রভা দাস প্রাণনাথ দাসের একমাত্র কন্যা। তিনি সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন এবং দেশের তিনটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন। তার এমন সম্ভাবনাময় জীবনের আকস্মিক পরিণতিতে পরিবারসহ পুরো এলাকাজুড়ে শোকের মাতম চলছে।
সাতক্ষীরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাতে পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রভা দাসের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়, কারণ এটি তার স্বাভাবিক অভ্যাসের বাইরে ছিল। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নামিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে রবিবার দুপুরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এসআই সোহেল রানা আরও জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পিতা প্রাণনাথ দাস সমাজে একজন সম্মানিত ব্যক্তি হলেও বিভিন্ন সমিতি সংক্রান্ত জটিলতা ও চাপের কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন মানসিক দুশ্চিন্তায় ছিল। অনেকের ধারণা, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ থেকেই প্রভা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহতের নিকটাত্মীয় সুমন মুখার্জী বলেন, প্রভা অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিল। সে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। এমন একটি সম্ভাবনাময় জীবন এভাবে হারিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
মানবাধিকার কর্মী জোসনা দত্ত বলেন, এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় অনেক সময় তড়িঘড়ি করে আত্মহত্যা বলে দায় সেরে ফেলা হয়। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনের সত্য উদঘাটনে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। প্রকৃত কারণ বের না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকসভা ও শোক মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply