পলাশবাড়ীতে এলপিজি সংকট, বাড়তি দামে বাড়তি দামে বিক্রয় হচ্ছে সিলিন্ডার
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বাজারে চাহিদামতো গ্যাস না পাওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ৪ অক্টোবর থেকে অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। বৈশ্বিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, পলাশবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
রায়হান এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু রায়হান জানান, বিএম গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। বর্তমানে তাঁর দোকানে ৫০টি সিলিন্ডার মজুত রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
নুরপুর এলাকার বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, দুই সপ্তাহ আগে তিনি ১ হাজার ৭৫৩ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছিলেন। এখন একই সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ২৩০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
সরকার ট্রেডার্সের ম্যানেজার বিরেশ চন্দ্র রায় জানান, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “বসুন্ধরা গ্যাস প্রায় ১৪ দিন ধরে নেই। যমুনা গ্যাস ১ হাজার ৮৪০ টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৮৫০ টাকা এবং আই গ্যাস ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে স্টকে মাত্র ২৫টি সিলিন্ডার রয়েছে।”
পলাশবাড়ীর বসুন্ধরা গ্যাসের ডিলার আল আমিন বলেন, “বসুন্ধরা গ্যাস কয়েক দিন ধরে সরবরাহ নেই। আমার কাছেও কোনো সিলিন্ডার নেই।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী তারা মণ্ডল বলেন, “দাম বেশি-কমের বিষয় নয়, গ্যাসই তো পাওয়া যাচ্ছে না।”
কালীবাড়ী এলাকার গ্যাস ব্যবসায়ী নিলুট জানান, “বাজারে যেভাবে গ্যাস কিনতে পারছি, সামান্য মুনাফা রেখেই তা বিক্রি করছি।”
গ্যাস ক্রেতা সাবু সরকার বলেন, “এভাবে হুটহাট করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আমরা নিম্নআয়ের মানুষ কীভাবে বাঁচব?”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “পলাশবাড়ীতে গ্যাসের সংকট নেই। কিছু অপপ্রচারের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। দ্রুত বাজার মনিটরিং করে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।”
খুচরা বিক্রেতা রাসেল বলেন,আমার দোকানে ৭ দিন থেকে কোন গ্যাস নাই,কবে গ্যাস পাব কোন গ্যাসের ডিলাররা বলতে পারছে না।তবে বসুন্ধরা ডিলার গ্যাস মজুদ রেখেও গ্যাসের সংকট সৃষ্টি করছেন বলেও তিনি দাবী করেন।
ভোক্তারা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
গ্রহকরা খালি সিলিন্ডার নিয়ে গ্যাসের দোকানে দোকানে গ্যাসের জন্য ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাস করছেন।
প্রকাশক মোঃ জিল্লুর রহমান <br>
বার্তা সম্পাদক মোঃ আলমগীর রতন মন্ডল <br>
সম্পাদক মোঃ রানা ইস্কান্দার রহমান <br>
নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার <br>
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ আঃ হালিম সরকার <br>
প্রধান কার্যালয়ঃ ঢাকা মিরপুর ১২ পল্লবী থানা পল্লবী মহল্লা মোবাইল নং <br>
01859667602
Copyright © 2026 durnitirtalashteam.com. All rights reserved.