বিদ্যুৎ সংকটে সাশ্রয়ের নির্দেশ, গাইবান্ধায় ঝলমলে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি—বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
দেশ যখন বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হচ্ছে। অফিস-আদালতে অপ্রয়োজনীয় ফ্যান-লাইট বন্ধ রাখা, সড়কের বাতি কমিয়ে দেওয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার মতো নানা নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
এমনকি গাইবান্ধা শহরেও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির নামে মাইকিং করে সরকারি নির্দেশনা মেনে সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল বন্ধ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে গাইবান্ধা জেলা শহরে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
জাতীয় সংকটের সময়ে মেলার বিলাসিতা কতটা যৌক্তিক?
বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মাসব্যাপী একটি বড় মেলায় বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক বাতি, এলইডি লাইট, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন লাইট, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিকল্পনা কতটা যুক্তিসংগত—এ প্রশ্ন উঠতেই পারে।
মেলার সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বাড়াতে রাতভর আলোকসজ্জা করা হলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেলার সময়সূচি ও ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ ভিন্ন হতে পারে। তবে সংকটের সময়ে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছে অবশ্যই একটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
স্থায়ী ব্যবসায়ীদের জন্য এক নিয়ম, মেলার জন্য আরেক নিয়ম?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে।
একদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মেলা যদি রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজন নিয়ে চলতে থাকে, তাহলে স্থায়ী ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
একজন ব্যবসায়ী যদি নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান খোলা রাখতে না পারেন, তাহলে একই এলাকার একটি বাণিজ্যিক আয়োজন কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে চলবে—এ প্রশ্নের যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, নিয়ম যদি সবার জন্য হয়, তাহলে তা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
মেলার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা
বর্তমান সময়ে গাইবান্ধার অনেক ব্যবসায়ী নানা অর্থনৈতিক চাপ ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ক্রেতা কমে যাওয়া, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতনসহ নানা খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।
এমন সময়ে একই শহরে দীর্ঘদিনের জন্য একটি বড় বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হলে মেলার স্টলগুলোতে ক্রেতার একটি বড় অংশ চলে যেতে পারে। এতে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, প্লাস্টিক পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা ও অন্যান্য পণ্যের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মেলার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন।
মেলা আয়োজনের আগে তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া এবং তাদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ
একটি বড় মেলায় একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালু থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এর ফলে ভোল্টেজ ওঠানামা বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকলে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন।
প্রকাশক মোঃ জিল্লুর রহমান <br>
বার্তা সম্পাদক মোঃ আলমগীর রতন মন্ডল <br>
সম্পাদক মোঃ রানা ইস্কান্দার রহমান <br>
নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার <br>
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ আঃ হালিম সরকার <br>
প্রধান কার্যালয়ঃ ঢাকা মিরপুর ১২ পল্লবী থানা পল্লবী মহল্লা মোবাইল নং <br>
01859667602
Copyright © 2026 durnitirtalashteam.com. All rights reserved.