প্রতিবন্ধীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ থেকে মামলা—‘জয় লাইভ’-এর অপপ্রচার ঘিরে নতুন বিতর্ক
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবির অভিযোগ; মাওনায় ভুক্তভোগী নারীর মামলা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সাংবাদিকতার পেশা। সম্প্রতি একজন প্রতিবন্ধীর বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ হাতেনাতে আটক করেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনাটি কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে উত্তরার একটি অভিজাত হোটেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসার দিকে যায়। ওই বৈঠকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসম্পাদক মাসুদ রানা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ঘটনার পরই শুরু পাল্টা প্রচারণা
তবে সমঝোতার পরও ঘটনাটি থেমে থাকেনি। অভিযোগ উঠেছে, ‘জয় লাইভ’ নামের একটি পেজে সাংবাদিকতার পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে অপমানজনক ও অসত্য তথ্য প্রচার করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাসুদ রানাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কখনো ‘ফল বিক্রেতা’, কখনো ‘পাতি নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। একইভাবে সাংবাদিক মুক্তা মিয়াকে ‘পাতি নেতা’, ‘নেতার চামচা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে হেয় করার চেষ্টা চলছে যা অত্যন্ত গর্হিত ও আইন অবমাননাকর, সত্য তথ্য তুলে না ধরে মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী জয় লাইভের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক ভাষা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো কি সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
মাওনায় এবার চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা
এরই মধ্যে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তার কাছে অর্থ দাবি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সাংবাদিকতার পরিচয় কি কোনো ব্যক্তির জন্য অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা চাপ সৃষ্টির ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?
তদন্তেই বেরিয়ে আসুক প্রকৃত সত্য
মাওনার ঘটনায় মামলা ও পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। একইসঙ্গে প্রতিবন্ধীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ এবং পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সচেতন সাংবাদিক সমাজ বলছে, কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হলেও সেটির দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিতে হবে।
মাসুদ রানার ভূমিকা নিয়েও চলছে বিতর্ক
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ রানা ছাত্রজীবনে ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়।
তাদের বক্তব্য, প্রতিবন্ধীর বাড়িতে চাঁদা দাবির অভিযোগের পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তিনি সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার পথে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। অথচ পরবর্তীতে তাকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপমানজনক নামে আক্রমণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাংবাদিক মুক্তা মিয়াকেও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অপপ্রচারেরও তদন্ত দাবি
সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের দাবি, মাওনার মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীর কাছে অর্থ দাবির অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়ের ব্যবহার, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরবর্তী অপপ্রচারের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নির্দোষদের হয়রানি ও মানহানিকর প্রচারণা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
কারণ, সাংবাদিকতার পরিচয় কারও চাঁদাবাজির লাইসেন্স নয়, আবার গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মও কারও চরিত্রহননের অস্ত্র হতে পারে না।
এখন সময় সত্য উদঘাটনের—অভিযোগের নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হোক কে অপরাধী আর কে নির্দোষ।
প্রকাশক মোঃ জিল্লুর রহমান <br>
বার্তা সম্পাদক মোঃ আলমগীর রতন মন্ডল <br>
সম্পাদক মোঃ রানা ইস্কান্দার রহমান <br>
নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার <br>
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোঃ আঃ হালিম সরকার <br>
প্রধান কার্যালয়ঃ ঢাকা মিরপুর ১২ পল্লবী থানা পল্লবী মহল্লা মোবাইল নং <br>
01859667602
Copyright © 2026 durnitirtalashteam.com. All rights reserved.