দেওয়ানগঞ্জে ভুয়া এনজিওর নামে গরিবের কোটি টাকা নিয়ে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ।
স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ রিফাত আলী দেওয়ানগঞ্জ জামালপুর।
এনজিও থেকে ঘর, টিউবয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন পেয়ে বাকি জীবন সুখে শান্তিতে থাকব। পুষ্টি প্রকল্পের টাকায় সন্তানকে ভালো খাবার খাইয়ে মানুষ করব। এমন আশায় দেওয়ানগঞ্জের কাউনিয়ারচর এলাকার শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ টাকার বিনিময়ে নাম লেখায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ এনজিওর আবাসন ও পুষ্টি প্রকল্পে। গত জুন মাসের ২৪ তারিখ থেকে অফিস তালাবদ্ধ। এনজিও মালিকরা নিখোঁজ। চক্রটি
অসহায় গরিব মানুষের ২ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা ।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মো.মাইদুল ইসলাম রনি, মো. রেজাউল করিম রেজা, সাজু আহম্মেদ ও মো.কামরুজ্জামান নামের চার ব্যক্তি কাউনিয়ারচর বাজার সংলগ্ন এলাকায়
মোছা. মাজেদা বেগমের বাড়ি ভাড়া নেয় । এনজিও অফিস পরিচালনা করার জন্য। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর থানার বড়াইডাঙ্গী শিবেরডাঙ্গী এলাকায়। সাইনবোর্ডে এনজিওর নাম লেখা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠাতা পল পোলাক। এনজিওটিতে শাখা
ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রনি, ফিল্ড অফিসার রেজা, হিসাবরক্ষক সাজু আহম্মেদ, অডিট অফিসার কামরুজ্জামান। তারা মাঠ কর্মী পদে চাকরি দেয় স্থানীয় ১২ জন
মহিলা ও ১ জন পুরুষকে। যাদের বেতন ধরা হয় ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাদের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি মাঠকর্মী মো. হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর
একটি অভিযোগ দায়ের করে গত ২৪ জুন সোমবার । অভিযোগে বলা হয়েছে, চক্রটি প্রথমে অত্র এলাকার ৩০০টি হতদরিদ্র পরিবারকে বিনামূল্যে ১ টি কম্বল, ১ কেজি ময়দা, ১ লিটার তেল দেয় ।
কিছুদিন পর ১৫০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রত্যক
পরিবারের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয় । তৃতীয় ধাপে ২৫শ পরিবারকে ১৮ হাজার ৭শত ২০ টাকা করে পুষ্টিভাতা দেওয়ার কথা বলে ২৫শ টাকা হারে ৬২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয় । চতুর্থ ধাপে ২৪০ টি পরিবারকে থ্রি কোয়ার্টার ঘর দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার
করে ৯৬ লাখ টাকা নিয়েছে । পঞ্চম ধাপে ১০০ জন পরিবারকে
টিউবয়ের ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা করে ২০ লাখ টাকা নিয়েছে । এভাবে ২ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে ।অন্যান্য মাঠকর্মী রেহেনা
পারভিন, রুবিনা খাতুন, সারমিন আক্তার, কল্পনা আক্তার, আছমাউল হুসনা সহ অনেকেরে ভাষ্য চক্রটি বখতিয়ার ভক্ত মেম্বার, শারমিন সহ ৪-৫ জনকে ঘর দিয়েছে নিমাইমাড়ী এলাকার হাফিজ,মাখনের চরের জহুরুলসহ কয়েকজনকে শুধু ঘরের খাম আর কাঠ দিয়েছে । বাকি সবাইকে ঘর দেবে বলে আশ্বস্ত করেই পালিয়েছে।
পশ্চিম নিমাইমাড়ী এলাকার বাসিন্দা লাইলি ও তার ছেলে
শামীমের ভাষ্য থ্রি-কোয়ার্টার টিনশেড ২০ হাত ঘর দেবে জন্য ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন তাদের অফিস তালাবদ্ধ। একই এলাকার হাফিজা খাতুন ও তার মা বালিতন ঘর পাবার আশায় ৪০ হাজার টাকা কিস্তি ঋণ তুলে দিয়েছে ।
পুষ্টি প্রকল্পে নাম দেওয়া সহিতন,ফজিলা, নাছিমা, রিনাসহ স্বপ্নারা
বলেন সন্তানের ভালোর জন্য অনেক পরিবার সুদের ওপর টাকা নিয়ে নাম দিয়েছে । কিন্তু এনজিওটি টাকা নিয়ে গরিব মানুষগুলোকে ধোঁকা দিয়ে চলে গেল । অত্র এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, যারা এই প্রতারণা করলো
তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বলেন,
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি । আইনানুগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে ।
উল্লেখ্য ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগ মানুষই ধান, গাছ, ছাগল বিক্রি করে, ঝণ করে, সুদের ওপর টাকা নিয়ে এনজিওতে টাকা দিয়েছে । টাকা ফেরত পাবার আশায় স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। বলছে টাকা জোগানো
কষ্টের কথা, স্বপ্ন ভঙ্গের কথা ।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.