ফিংড়ী ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার ফিংড়ী ভূমি অফিসের নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং নামজারি ও বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কাজে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এ প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ফিংড়ী ভূমি অফিসে নামজারি, ভূমি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অনেককে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার জন্য চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। অর্থ না দিলে ফাইলের কাজ বিলম্বিত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নামজারি ঘিরে দালালচক্রের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসের আশপাশে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। কয়েকজন সেবাগ্রহীতার দাবি, দালালদের মাধ্যমে নামজারির জন্য কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি’র পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে কাজ দ্রুত এগোয় না।
এ ছাড়া খাজনা দাখিলা, ইজারা, বিভিন্ন ধরনের ভূমি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও জমির বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায়ও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। কাজের ধরন ও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার ওপর নির্ভর করে অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফিংড়ীর বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম মাসুম অভিযোগ করেন, ১৪৫ ধারার একটি রিপোর্টের জন্য তিনি নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, টাকা দেওয়ার পরও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।
জাফর নামে আরেক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, আগরদাড়ী ইউনিয়নের কাশেমপুর মৌজায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় তিনি নায়েবের কাছে গেলে তাঁর কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার পরও তাঁর পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ফিংড়ীর আলামিন হোসেনের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তিনি তাঁর মাকে নিয়ে নামজারির কাজে ভূমি অফিসে যান। এ সময় একজন দালাল তাঁর কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন বলে জানান তিনি। পরে নায়েবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও তাঁকে ওই দালালের কাছেই যেতে বলা হয় বলে তাঁর দাবি। শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার টাকা দিয়ে কাজ করানোর ব্যবস্থা করেন বলে জানান আলামিন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শর্মিষ্ঠা সরকার এর আগে সাতক্ষীরা সদরসহ কয়েকটি ভূমি কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেসব কর্মস্থলেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল বলে তারা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগের পর তাঁকে ফিংড়ীতে বদলি করা হয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে বদলির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকার সময়ও নামজারি-সংক্রান্ত একটি দালালচক্রের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
এদিকে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ও অভিযোগের কথাও শোনা গেলেও সেসবের কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যক্তিগত বিষয়সংক্রান্ত এসব অভিযোগকে সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি, সেবার সময়সীমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, ভূমি অফিসের সেবা পেতে গিয়ে কোনো নাগরিক যাতে দালাল বা অতিরিক্ত অর্থ দাবির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক ও সম্পাদক, মোঃ জিল্লুর রহমান,০১৮৫৯-৬৬৭৬০২,০১৭০৭-৫০১৪১৪নি,র্বাহী সম্পাদক, মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার, বার্তা সম্পাদক, মোঃ রতন মন্ডল
প্রধান কার্যালয়ঃ মিরপুর ১২ ঢাকা ১২১৬,mail: jillumia87@gmail.com
Copyright © 2026 দুর্নীতির তালাশ টিম. All rights reserved.